Mamata Banerjee : ‘ভোটের স্বার্থে কেউ অশান্তি ছড়াতে চাইলে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করুন’—জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাংলায় কেউ কেউ অশান্তি ছড়াতে চাইছেন। সতর্ক থাকতে হবে।” মমতা আরও বলেন, ভোটের সময় কিছু মানুষ অশান্তি ছড়াতে চাইলেও, বাংলা শান্তি চায় এবং সেজন্য সবাইকে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি আমাদের ৩০ শতাংশ অন্য কোনো কমিউনিটির মানুষ কিছু হয়, তারা রাস্তায় বসে প্রতিবাদ দেখাবে, প্রাণ ওষ্ঠাগত করে দেবে। এমন পরিস্থিতি আমি চাই না। আমাদের তফশিলি জাতি ২৬ শতাংশ এবং আদিবাসী ৬ শতাংশ, যারা কোনও ছোট ঘটনা হলে ট্রেন অবরোধের মতো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। আমি চাই সবাই শান্তিতে থাকুক এবং কেউ কারোর বিষয়ে নাক গলাবে না।” এই মন্তব্যে সরাসরি কোনো কমিউনিটির নাম না দিলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনি মূলত সংখ্যালঘু ভোট এবং তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কথাই উল্লেখ করছেন।

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টিতে সংখ্যালঘু ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। এদের মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে ১৩১টি, বিজেপির ১৪টি এবং আইএসএফের ১টি। বিশেষভাবে ৪০-৯০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট থাকা বিধানসভার সংখ্যা ৭৪টি, আর ২৫-৪০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের বিধানসভা ৭২টি। এই তথ্যই নির্দেশ করছে যে সংখ্যালঘু ভোট বাংলার রাজনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি এবং বিরোধী দলনেতারও অবস্থান স্পষ্ট। সংখ্যালঘুদের মন পেতে রাজনীতির কৌশল, ভোটের আগে তাদের গুরুত্ব, এবং বিশেষ করে মুসলিম ভোট নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি কখনো মুসলিম ভোট চাননি, বরং সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব রাজনীতিতে কতটা, সেটাই বোঝাচ্ছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, ভোটের আগে রাজনীতিকরা সংখ্যালঘুদের ওপর গণিত করে রাজনৈতিক কৌশল তৈরির চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh : হিন্দু ও পুলিশ খুনে*র বিচার বন্ধ! জুলাই আন্দোলনের নামে খুনিদের দায়মুক্তি দিল বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকার!

সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত এই মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পুলিশ প্রশাসন যদি তৃণমূলকে দেখলেই থেমে যায়, তাহলে অশান্তি রোধ কে করবে? বিজেপি নেতারা যদি ধর্ম-জাত ভিত্তিক রাজনীতি তৈরিতে প্রস্তুত থাকে এবং তৃণমূলও যুক্ত থাকে, তাহলে শান্তি রক্ষা করা কতটা কঠিন হবে।” মমতার বক্তব্যের সঙ্গে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভোটকে কেন্দ্র করে কতটা সংবেদনশীল ও সতর্ক থাকার দাবি করছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles