যে মারণ রোগে উজাড় হয়ে যাচ্ছে গ্রাম থেকে শহর , রাজ্য, জেলা, দেশ, বিশ্ব সেই মারণ ভাইরাসের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে খবর ছড়ালো বেলেঘাটা আইডির সামনা। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের ইমারজেন্সি গেটের ঠিক বাইরে, এই ওষুধ কিনতে লাইন দিচ্ছেন অনেকে। শুক্রবার এমন দৃশ্য ধরা পড়ল। আর এই ছবি দেখেই উঠছে হাজারো প্রশ্ন।
শুক্রবার দুপুরে দেখা যায়, বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের ইমারজেন্সি গেটের ঠিক বাইরে পসরা সাজিয়ে বসেছেন ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা অরুণ কুমার সাউ। চিৎকার করে বলছেন, তাঁর কাছে করোনা ভাইরাস আটকানোর যাবতীয় আয়ুর্বেদ ভেষজ জিনিস রয়েছে। কয়েক মিনিটেই সেই খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আর তারপরই মুহূর্তের মধ্যে ভিড় জমে যায় সেখানে। সবার প্রশ্ন, ঠিক কী ওষুধ বিক্রি করছেন ওই ব্যক্তি।
সূত্রের খবর, অরুণ কুমার সাউয়ের ঠাকুরপুকুরে একটি গুমটি মুদির দোকান রয়েছে। মাঝেমধ্যে আবার ট্যাক্সিও চালান তিনি। কিন্তু এবার তিনি করোনা ভাইরাসের ওষুধ বিক্রি করতে চলে এসেছেন। অরুণ বাবুকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তিনি শুনেছেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অনেকেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাই তাঁদেরকে সুস্থ্য করতে এসেছেন তিনি।
তাঁর ওষুধ হল হলো তুলসি, জাইফল, হরিতকী, বয়রা, দারচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচের মতো উপাদান। এগুলি বেঁটে গুঁড়ো করে তারপর গরম জলে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে খেলেই নাকি সব রোগ সেরে যাবে। এই ওষুধ জানার জন্য অনেকেই ভিড় করছেন, এবং তাঁদের মধ্যে অনেকে বিশ্বাসও করছেন অরুণের কথা। তবে বেশিরভাগই বিজ্ঞানীরাই বলছেন, এখনও করোনা ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কার করা হয়নি। তাই এইসব বাদ দিয়ে আমরা বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই চিকিৎসা করাব। বেলেঘাটা আইডির ইমারজেন্সির বাইরে এই ঘটনা আবার আঙুল তুলে দিয়েছে প্রশাসনের দিকেই।
বর্তমানে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে সবথেকে বেশি পরীক্ষা করা হচ্ছে বেলেঘাটা আইডিতে। সেখানেই ৩ করোনা আক্রান্ত ভর্তিও রয়েছেন। তাহলে কী ভাবে ইমারজেন্সি গেটের বাইরে একজন জনসমক্ষে এইরকম একটি ওষুধ বিক্রি করার দুঃসাহস দেখাতে পারে। হাসপাতালে তো প্রচুর পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তারপরও এমন ঘটনা কেন ঘটলো? কিছুক্ষণ পরে অবশ্য পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে অরুণকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্যকর ভীড় ও মানুষের উদ্বেগ দেখা দেয়।






