বউবাজারের একাধিক বাড়িতে ফাটলের জের, আরও বড় বিপদ এড়াতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হল মেট্রোর কাজ

আজ ভোররাতেই বউবাজারের একাধিক বাড়িতে দেখা দেয় ফাটল। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসতে থাকে জল। এর জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত বন্ধ রাখা হল মেট্রোর কাজ। ফের কবে থেকে কাজ শুরু হবে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে মেট্রোর কাজ বেশিদিন ফেলে রাখতে চায় না কর্তৃপক্ষ। ফলে চলতি বছরের মধ্যেই ফের কাজ চালু হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। ঘটনাস্থলে যান ফিরহাদ হাকিম ও মহম্মদ সেলিম। এই ঘটনার জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করেন তারা।

বউবাজারের মদন দত্ত লেনে মাটির নিচে চলছিল কেমিক্যাল গ্রাউটিংয়ের কাজ। ক্রস প্যাসেজ তৈরির সময় মাটি শক্ত করার কাজ চলছিল। এর জন্য মাটিতে রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়েছিল। শুক্রবার থেকে শুরু হয় এই কাজ। ভবিষ্যতের বিপর্যয় এড়ানোর জন্যই কেমিক্যাল গ্রাউটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই পদ্ধতিই যে বিপদের কারণ হয় দাঁড়াবে, তা ভাবতেও পারেননি তাঁরা। সূত্রের খবর, এই কাজের দায়িত্বে ছিলেন সুইডেনের ইঞ্জিনিয়াররা। 

বৃহস্পতিবার মাঝরাতেই মদন দত্ত লেনের ১০টি বাড়িতে দেখা দেয় ফাটল। মাটি ফুঁড়ে জল ঢুকতে থাকে। এর জেরে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ভোর হতেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন তারা। এরপর ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে সব দেখেশুনে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এই অবস্থায় যদি কাজ করা হয়, তাহলে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।

ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মেট্রো কর্তৃপক্ষের উপর বেশ বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “আমি ইঞ্জিনিয়ার নই, কিন্তু দীর্ঘদিন পুরসভার আমার মনে হচ্ছে, যে জায়গায় মেশিন আটকে গেছিল ওখানে ওয়াটার পকেট তৈরি হয়েছে। ওয়াটার পকেট থেকে জল রিভার্স যাওয়ার জন্যই মাটি ধুয়ে কাদায় পরিণত হচ্ছে। এইরকম ভাবে চলতে থাকলে দুদিন অন্তর ফাটল দেখা দেবে”।

ফিরহাদ আরও জানান, “আমি বসে আছি বৈঠক করার জন্য। কিন্তু শীর্ষস্তর থেকে একটা বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজন হলে ওই এলাকার কতগুলি বাড়ি ভেঙে ফেলে একেবারে নিচ থেকে পাইলিং করে সেখানে বিল্ডিং তুলে যার যত স্কোয়ার ফিট, সেটা দিতে হবে।  দরকার হলে মেন রাস্তা থেকে এফএআর করতে হবে”। তিনি জানান যে শুক্র-শনিবারের মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও মাটি বিশেষজ্ঞদের ডেকে কথা বলা হবে।

RELATED Articles