সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল—সবাই তাকিয়ে রয়েছেন এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার দিকে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ পেতে এখনও কিছুটা দেরি থাকলেও, তার আগেই নাম বাদ পড়ার সংখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের ভিড় বুথে, ফর্ম জমা দেওয়া থেকে যাচাই—সব মিলিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই কয়েক লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। গতকাল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, এখনও পর্যন্ত ডিজিটাইজড হয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লক্ষ ফর্ম। কিন্তু তার মধ্যেই দেখা যাচ্ছে, ১০ লক্ষের বেশি ভোটার তাঁদের ফর্ম জমা দেননি। এই সংখ্যার ভিত্তিতেই কমিশন সূত্রে প্রথমে জানা যায়—প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, যার বড় অংশ মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সেই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার। অর্থাৎ একদিনেই আরও প্রায় ৪ লক্ষ নাম যুক্ত হয়েছে বাদ পড়া তালিকায়। শতাংশের বিচারে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ বিভাগে সর্বাধিক নাম বাদ পড়েছে। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। যদিও এখনই চূড়ান্ত সংখ্যা বলা যাবে না, কারণ ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এসআইআর ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া।
এত সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার খবর সামনে আসতেই বিরোধী-তৃণমূল দু’পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ জানান—“কতজনের নাম বাদ পড়ছে, সেটা আমরা জানি না। শুধু সংবাদ মাধ্যমে শুনছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য—কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে না বাদ যায়।” অন্যদিকে বিজেপি বারবার নাম বাদ নিয়ে বড় সংখ্যার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
আরও পড়ুনঃ Assam : “দ্বিতীয় স্ত্রী নিলে সরাসরি জেল”! বহুবিবাহে কড়া দমনে নামল অসম—হিমন্তের নতুন বিলে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, কাজি-পুরোহিতও শাস্তির আওতায়!
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি—“লিখে রাখুন, ১ কোটির উপর নাম বাদ যাবে।” তাঁর কথায়, ১০০ শতাংশ এসআইআর হলে আরও বেশি নাম বাদ যেত। শুভেন্দুর এই মন্তব্যে নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। এখন নজর একটাই—খসড়া তালিকা প্রকাশের পর প্রকৃত সংখ্যাটা কত দাঁড়ায় এবং তার প্রভাব কতটা পড়বে রাজ্য রাজনীতিতে।





