অসমে পরিবার, সমাজ আর আইনি নীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে—সেই প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, বহুবিবাহ নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে চাইছে সরকার। কিন্তু সাধারণ মানুষ ঠিক কী বদল আসতে চলেছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মত, অভিযোগ, আশঙ্কা ছড়াচ্ছিল। পরিস্থিতি এমনই যে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিধানসভা পর্যন্ত আলোচনা জমে উঠেছে একটাই বিষয়—বহুবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর আইন কি সত্যিই আসছে?
মঙ্গলবার অবশেষে সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিধানসভায় পেশ করলেন ‘অসম বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল, ২০২৫’। শিল্পী জ়ুবিন গার্গের মৃত্যু প্রসঙ্গে আলোচনা চলাকালীন বিরোধীরা ওয়াক আউট করায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি পেশ হয়। স্পিকারের অনুমতিক্রমে হিমন্ত স্পষ্ট করে দেন—বহুগামিতাকে এখন থেকে ‘অপরাধ’ হিসাবে চিহ্নিত করতে চাইছে রাজ্য সরকার। তবে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত অঞ্চল এবং সংবিধানের ৩৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত তফসিলি জাতি ও জনজাতির সদস্যরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়—যাঁদের স্ত্রী বা স্বামী জীবিত, এবং আইনি বিচ্ছেদ না করেই কেউ নতুন বিয়ে করেন, তাঁরা কঠোর শাস্তির মুখে পড়বেন। প্রথম অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল, আর পূর্বের বিবাহ গোপন রেখে নতুন করে বিয়ে করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের জরিমানাও ধার্য হবে। সবচেয়ে বড় কথা—এই প্রক্রিয়ায় যাঁরা ভূমিকা রাখবেন, যেমন কাজি, পুরোহিত, গ্রামপ্রধান বা pিতামাতা—তাঁদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সরকারের বক্তব্য, বহুবিবাহের মতো প্রথা রাজ্যের সামাজিক কাঠামোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই কঠোর বার্তা দিতেই এই আইন আনা হচ্ছে। কেউ যদি একাধিকবার একই অপরাধ করেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর শাস্তি দ্বিগুণ হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু অপরাধীকেই নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা এবং সহায়তাও এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুনঃ Bihar politics : রাবড়ি দেবীকে ‘ঘরছাড়া’ করল সরকার? নোটিস জারি হতেই বিজেপি-নীতীশ জোটে ‘গোপন চাল’ অভিযোগ বিরোধীদের!
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, বহুবিবাহ করে দোষী সাব্যস্ত হলে ওই ব্যক্তি সরকারি চাকরি পাবেন না, কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন না। এমনকি পঞ্চায়েত বা পুরসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকারও হারাবেন। ফলে সমাজ, পরিবার ও জনজীবন—সব ক্ষেত্রেই বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে এই বিল।





