Mumbai 26/11 atta*ck : তাজের আ*গুন, আর্তনাতের চিৎকার আর র*ক্তে ভেসে যাওয়া শহর—২৬/১১-র ১৭ বছর পরও ন্যায়হীন মুম্বই, খুনি*রা কি আজও পাকিস্তানে নির্বিঘ্নে?

মুম্বইয়ের ব্যস্ত রাস্তায় আজও কিছু সন্ধ্যা নীরব হয়ে দাঁড়ায়। কারণ ২৬ নভেম্বর এলেই ২০০৮ সালের সেই রক্তস্নাত রাত ফিরে আসে স্মৃতির পর্দায়। ১৬৬টি প্রাণহানির আর্তনাদ যেন মুম্বইয়ের বাতাসে থমকে থাকে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এমন ভয়াবহ দিন আর আসেনি বলেই মনে করেন অনেকে। তবুও সময় এগিয়ে গেছে—১৭ বছর পেরিয়েছে। কিন্তু মানুষের মনে দগদগে ক্ষত যেন আজও যায়নি। আজও প্রশ্ন থেকে যায়, এত প্রাণহানির পরও কি সত্যিই ন্যায় মিলেছে?

তদন্তকারীরা জানান, হামলার ছক কষা হচ্ছিল বহুদিন ধরেই। পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার প্রশিক্ষণ শিবিরে ১০ জঙ্গিকে চার দফায় ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল। সে বছরের সেপ্টেম্বরেই তারা ভারতের দিকে রওনা দেয়। প্রথমে ৭ নভেম্বর হামলার পরিকল্পনা থাকলেও তা বদলে যায়। আরব সাগর পেরিয়ে ভারতীয় নৌকা ব্যবহার করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এক মৎস্যজীবীর ডিঙির মাধ্যমে মুম্বইয়ে ঢুকে পড়ে জঙ্গিরা। শহরে পা রাখতেই তারা ছ’টি দলে ভাগ হয়ে যায়—সবকিছু ছিল নিখুঁতভাবে সাজানো।

রাত নামতেই শুরু হয় মৃত্যু মিছিল। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে থাকে আজমল কাসভ ও ইসমাইল খান। কিছুক্ষণের মধ্যেই কামা হাসপাতাল, লিওপল্ড ক্যাফে, তাজ হোটেল, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট এবং নরিম্যান হাউসে একের পর এক বিস্ফোরণ, আগুন, গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে মুম্বই। শহরের রাস্তায় তখন বারুদের তীব্র গন্ধ, আহতদের আর্তচিৎকার, ভয়ের নিস্তব্ধতা। মুম্বই পুলিশের সঙ্গে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নেমে পড়ে NSG টিম। ‘অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো’ শুরু হয়, যা টানা ৬০ ঘণ্টার লড়াইয়ের ইতিহাস রচনা করে।

এই দীর্ঘ অভিযানেই জীবিত ধরা পড়েছিল আজমল কাসভ—যা ভারতের তদন্তে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। আর্থার রোড জেলে কড়া নিরাপত্তায় তাকে রাখা হয়। ২০০৯ সালে কাসভ আদালতে অপরাধ কবুল করে। আদালতে জমা পড়ে প্রমাণের স্তুপ—ঠিক তখনই আমেরিকার শিকাগোয় গ্রেপ্তার হয় ডবল এজেন্ট ডেভিড হেডলি, যে আগেই মুম্বই-সহ ভারতের নানা জায়গায় রেকি করে গিয়েছিল। পরে তাকে রাজসাক্ষী করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে ২০১২ সালের নভেম্বরে ফাঁসি দেওয়া হয় কাসভকে। কিন্তু মূলচক্রীদের বড় অংশ তখনও নাগালের বাইরে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : ভোটার লিস্টে তোলপাড়! খসড়া প্রকাশের আগেই ১৪ লক্ষ নাম বাদ— শুভেন্দুর সতর্ক বার্তা, ‘এটা শুরু মাত্র… ১ কোটির ওপর নাম যাবে।’ তৃণমূল-বিজেপি পাল্টাপাল্টি দাবিতে সরগরম রাজ্য!

তদন্তে পরিষ্কার উঠে আসে—হাফিজ সৈয়দ, জাকিউর রহমান লখভি, মেজর ইকবাল, আব্দুল রহমান হাসিম ওরফে পাশা—এই নামগুলোই মূল মস্তিষ্ক। পাকিস্তানে এই সকল নামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযোগ থাকলেও বাস্তবে বেশ কয়েকজন আজও স্বাভাবিক জীবনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভারত ডিএনএ রিপোর্ট, ছবি, নথি—সবই পাকিস্তানের হাতে তুলে দিলেও প্রত্যর্পণ হয়নি প্রধান অভিযুক্তদের। শুধু ডেভিড হেডলির বন্ধু তাহাউর হুসেন রানা সম্প্রতি ভারতের হাতে এসেছে। তবুও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত—১৭ বছর পরেও কি ন্যায় সম্পূর্ণ হল? নাকি ২৬/১১-এর ক্ষত আজও একইভাবে টিকে আছে প্রতিটি ভারতীয়ের মনে?

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles