রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রায়ই বড়াই করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সে যে শুধু খাতায়-কলমে প্রতিদিনই তা প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে। একের পর এক সাধারন মানুষ প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। গতকাল সকালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ চত্বরে এক মর্মান্তিক ঘটনা প্রমাণ করলো যে এই রাজ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা বেহাল।
কলকাতা মেডিকেল কলেজে আজ সকালে রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ ওফ্থালমলজি আউটডোর এর সামনে গাছ তলায় দেখা যায় এক মুমূর্ষ বৃদ্ধ শুয়ে রয়েছেন। শ্বাসকষ্টের জেরে তার মরো মরো অবস্থা। একটি বড় ব্যাগকে মাথার বালিশ করে তাকে শুইয়ে দিয়ে গিয়েছে কেউ। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় তিনি পড়ে থাকেন, মাঝে মাঝে হাত দিয়ে গাছতলার সংলগ্ন স্টিলের রড ধাক্কা ছিলেন তিনি যাতে কেউ সাহায্য করে। আশেপাশে থাকা রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালের লোকজনকে বারবার জানালেও কেউই তাকে ভর্তি করতে আসেননি। এরপর যখন একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম ঘটনাস্থলে যায় তখন পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। ওই সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এবং অন্যান্য রোগীর আত্মীয়দের তরফে কলকাতা পুলিশের ১০০ নম্বর ডায়াল করেও কোনো রকম সাহায্য পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষন পরে হাসপাতালের এক কর্মী নাম বাসন্তী শ্রীবাস্তব তিনি আসেন এবং ওই বৃদ্ধকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার কিছু পরে পরেই মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন সভাঘর থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি আসেন এবং সেখানে তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা উন্নত সেই নিয়ে বিশদে বক্তৃতা দেন। তিনি দাবি করেন স্বাস্থ্য পরিষেবায় বাংলা সেরা এবং সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে! যদিও গতকাল সকালে কলকাতা মেডিকেল কলেজের ঘটনা কিন্তু উল্টোটাই বলছে!





