Narendra Modi : লোকসভায় মোদির তোপ—‘বন্দে মাতরম মানেননি জিন্না, আর সেই মতেই সায় দিয়েছিলেন নেহরু’!

দেশজুড়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের আবহে ফের সামনে এল বন্দে মাতরম ইস্যু। স্বাধীনতার পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই গান নিয়ে মতবিরোধ যেন থামতেই চায় না। লোকসভায় আলোচনা চলাকালীন মুহূর্তেই উত্তেজনার পারদ চড়ে ওঠে, আর সেই কেন্দ্রে উঠে আসে দেশের দুই প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন। ঠিক কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি? আর কেনই বা কংগ্রেস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাল?

লোকসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তুষ্টিকরণ রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি মন্তব্য করেন, কংগ্রেস নাকি একসময় মুসলিম লিগের সামনে মাথা নত করেছিল। এখানেই থামেননি তিনি। মোদি দাবি করেন—বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করেছিলেন মুহম্মদ আলি জিন্না, আর সেই অবস্থানের সঙ্গেই নাকি একসময় একমত হয়েছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। ক্রমে জোড়ালো হয় বিতর্কের সুর।

মোদির বক্তব্যে উঠে আসে একটি বিশেষ দাবি—নেহরু নাকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, বন্দে মাতরম মুসলিম সম্প্রদায়কে প্ররোচিত করতে পারে। তাঁর কথায়, এই অবস্থান ছিল ‘বন্দে মাতরমের প্রতি অবিশ্বাস’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। এমন মন্তব্য সামনে আসতেই সংসদে হইচই পড়ে যায়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ জবাব দিতে ওঠেন সাংসদ গৌরব গগই।

গৌরব গগই পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি সংসদে এলেই নেহরু ও কংগ্রেসকে নিশানা করেন—এটাই তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, “আপনি যতই চেষ্টা করুন, নেহরুজির ভাবমূর্তিতে কালো দাগ লাগাতে পারবেন না।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মুসলিম লিগ চাইলেও বন্দে মাতরম বাতিল হয়নি কারণ কংগ্রেস তাদের কথায় নয়, মৌলানা আজাদের মতেই চলেছিল। তাঁর তীব্র মন্তব্য—আরএসএসের রাজনৈতিক পূর্বসূরিরা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশই নেননি।

আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee : গীতাপাঠ বয়কট! বিজেপিকে ‘বাংলা–বিরোধী’ আখ্যা মমতার! গীতাপাঠে কেন গেলেন না মুখ্যমন্ত্রী?

সবশেষে মোদি অভিযোগ করেন—কংগ্রেস নাকি বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক বাদ দিয়েছিল, যা তিনি সংসদে পড়েও শোনান। তাঁর আরও দাবি, গানটি ‘ভাঙার’ পরেই দেশ ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ইঙ্গিত করেন জরুরি অবস্থার দিকেও—১৯৭৫ সালে বন্দে মাতরমের ১০০ বছর পূর্তিতে নাকি সংবিধানকেই রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মোদির কথায়, তাঁদের সরকার বন্দে মাতরমের গুরুত্ব ও ঐতিহ্যকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কারণ এই গান বহু প্রজন্মকে যেমন অনুপ্রাণিত করেছে, ভবিষ্যতেও তেমনই করে যাবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles