ইন্ডিগোর পরিষেবা বিপর্যয় গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাতিল উড়ানে আটকে পড়া যাত্রীদের ক্ষোভ ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিমানবন্দর—সব জায়গাতেই। সাধারণ মানুষের এই অসন্তোষের মাঝেই সোমবার কোচবিহারের সফরে রওনা দেওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য—এই সমস্যার শিকড় নীতিগত গাফিলতি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই তুলে ধরেন নীতি প্রয়োগের সময় পরিকল্পনার অভাবের বিষয়টি। তিনি বলেন, পাইলট ও বিমানকর্মীদের বিশ্রাম নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু হঠাৎ করে কোনও নতুন নিয়ম চালু করলে তার প্রভাব আগে ভেবেচিন্তে দেখা উচিত। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র পরিকল্পনা না করেই ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ (FDTL) চালু করেছিল, যার ফলে এ বার যাত্রীদেরই বিপাকে পড়তে হচ্ছে। মানুষ সময়ের দামে ভরসা করে টিকিট কাটেন—সেই বিশ্বাসে আঘাত পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী সুর আরও তীব্র করেন। তাঁর দাবি, পরপর এতগুলি উড়ান বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের সুবিধার কথা নয়, বরং নির্বাচনের হিসেবেই বেশি ভাবছে। যাত্রীদের হেনস্থার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত কেন্দ্রের—মমতার কথায় সেই দাবি স্পষ্টই শোনা যায়। এমনকি, যাত্রীরা চাইলে আদালতে যাওয়ার পথও খোলা, সে দিকেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
গত সাত দিন ধরে ইন্ডিগো পরিষেবায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থার বহু উড়ান বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা নাজেহাল। অভিযোগ উঠেছে ডিজিসিএ-র সময়সীমা বিধি—FDTL—নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী পাইলটদের সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক বিশ্রাম, রাতের শিফটে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ—এসবের ফলে হঠাৎ জনবলের ঘাটতি তৈরি হয়। দুই দফায় নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সংকট বাড়তে থাকে, যা সামলাতে বিমান সংস্থার নাজেহাল পরিস্থিতি সামনে আসে।
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : লোকসভায় মোদির তোপ—‘বন্দে মাতরম মানেননি জিন্না, আর সেই মতেই সায় দিয়েছিলেন নেহরু’!
পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠতেই ডিজিসিএ হঠাৎই একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লজ প্রত্যাহার করে। পাইলটদের ছুটির সময়সীমা বিশ্রামের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গণনা করা যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পরিষেবা কিছুটা স্বাভাবিক হয়। রাতের শিফট সম্পর্কেও কিছু ছাড় দেওয়া হয়। তবু মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সমস্যা তৈরি হওয়ার আগে অল্প একটু পরিকল্পনাই এ সব বিপর্যয় এড়াতে পারত। তাই দায় এড়াতে পারবে না কেন্দ্র—এ কথাই দিনের শেষে আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।





