সম্প্রীতির পুজো! দুর্গামায়ের আরাধনার দায়িত্বে তৌসিফ, রহমানরা, পুজোর খরচ থেকে জ্যান্ত ‘দুর্গার’ বিয়েও দেবেন তারা

আট বছর ধরে হয়নি পুজো। অর্থের অভাবের জেরেই বন্ধ হয়ে দেবী বন্দনা। কিন্তু ফের তৌসিফ, রহমানদের মতো সংখ্যালঘুদের উদ্যোগেই শুরু হয়েছে দুর্গাপুজো। তাদের নেতৃত্বেই এবার এই পুজো তিন বছরে পড়ল। তৌসিফ, রহমানরা জানিয়েছেন, এই পুজোর খরচ থেকে যে টাকা বাঁচবে, তা দিয়ে দুঃস্থ মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হবে।

ঠিক কী ঘটেছে ঘটনাটি?

কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রীট মূলত সংখ্যালঘু এলাকা বলেই পরিচিত। সেখানে হাতেগোনা কিছু বাঙালি হিন্দু পরিবারের বাস। আগে এখানে ছোটো করে হত দুর্গাপুজো হত কিন্তু অর্থের অভাবে ২০১৩ সালে তাও বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০২১ সালে ফের আলিমুদ্দিন স্ট্রীটে এই দুর্গাপুজো করার উদ্যোগ নেন এলাকার সংখ্যালঘুরাই। খুঁটিপুজো থেকে শুরু করে মণ্ডপ তৈরি, প্রতিমা নিয়ে আসা সবই নিজেদের দায়িত্বে করে থাকেন তৌসিফ, রহমানরা।

যেখানে ঈদের শামিয়ানা টাঙানো হয়েছিল, সেই জায়গাতেই এখন তৈরি হয়েছে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। দু’বছর আগেও পুজো নিয়ে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না তৌসিফ, রহমানরা। তবে পাড়ার বাঙালি হিন্দু প্রতিবেশীদের থেকেই সবটা জেনেছেন তারাও। কলকাতার বুকে এমন সম্প্রীতির পুজো দেখতে তো এখন বিদেশিদের আসেন এই মণ্ডপে। ফলে বেড়েছে পুজোর বাজেটও।

কী জানালেন পুজোর উদ্যোক্তারা?

পুজো উদ্য়োক্তা মুহম্মদ তৌসিফ রহমান বলেন, “উৎসবের কোনও রং হয় না। আর্থিক কারণে পুজো বন্ধ হয়েছিল। এলাকায় সংখ‌্যালঘুদের উদ্য়োগে ফের পুজো শুরু হয়েছে। পুজোর জন‌্য কোনও চাঁদা সংগ্রহ করা হয় না। পুরো খরচ এলাকার সংখ‌্যালঘুরাই বহন করেন। কুমোরটুলিতে সংখ‌্যালঘুরা গিয়ে প্রতিমা নিয়ে আসেন। পুরোহিত দিয়ে সন্ধিপুজো, কলাবউ স্নান, অঞ্জলি, ভোগ সবই পুঙ্খানুপুঙ্খ নিয়ম মেনে করা হয়। ব্রাহ্মণ এনে ভোগ রান্না হয়। একসঙ্গে সেই ভোগ খাই। ইদের মতো এখন পুজোয়ও সবাই মিলে আনন্দ করি। বিসর্জনেও আমরা সকলে যাই। সম্প্রতির পাশাপাশি সমাজসেবাতেও রয়েছে এই সংখ‌্যালঘু পুজো কমিটি। গত বছর পুজোর বাজেট থেকে দুস্থ চার বাচ্চাকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছিল। এবার দুস্থ মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন আয়োজকরা”।

তৌসিফ-রহমানদের কথায়, “সর্বাধিক তিনটি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়া হবে। পুজোর খরচ থেকে যে টাকা বাঁচবে, তা দিয়েই বিয়ের আয়োজন করা হবে। এ ক্ষেত্রেও কোনও ধর্ম দেখা হবে না। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান কিংবা আদিবাসী সম্প্রদায় যে কেউ আমাদের কাছে আবেদন করতে পারেন”। পুজোর দিনগুলিতে মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তারা।

RELATED Articles