মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে জল উপচে গিয়েছে বিপর্যস্ত সিকিমের লাচেন উপত্যকার লোনাক লেকে। হড়পা বানের সেই জলে ভেসে গেল সেনা জওয়ানদের একটি গাড়ি। ২৩ জন জওয়ান নিখোঁজ। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। তিস্তায় তিনটি দেহ ভেসে এলেও তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা এই দেহগুলি নিখোঁজ জওয়ানদেরও হতে পারে। সিকিমের এই পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে বৈঠক করা হয়েছে। মমতা জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই আইএস আধিকারিক, মন্ত্রীদের পাঠিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই তিস্তায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলছে উদ্ধারকার্য। তিস্তার আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে তিস্তায় ১৫-২০ ফুট উপর দিয়ে বইছে জল।
সেনার তরফ থেকে সতর্ক করা হয়েছে. লোনক হ্রদের ফাটল আরও বড় হয়েছে। আরও ২৫ ফুট উচ্চতায় জল বইতে পারে। এই মুহূর্তের ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ জলের স্তরে ভেসে গিয়েছে। এর জেরে সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সিকিমের পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বলেন, “আমরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিস্তার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত। সিকিমের জল তিস্তাকে ভাসিয়ে দিয়েছে। আমি মুখ্যসচিবকে বলেছি এখানে সেনাবাহিনীর যিনি প্রধান রয়েছেন, তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে। যদি সেনা মনে করে, আমাদের কোনও সহযোগিতা প্রয়োজন, আমরা সবরকমভাবে প্রস্তুত। আমরা ইতিমধ্যেই এসডিআরএফ, এনডিআরএফ-কে বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়েছি। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে অফিসারদের একটা টিম সব এলাকা ঘুরে দেখবে। এসডিও, জনপ্রতিনিধিরা গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবেন। কয়েকজন মন্ত্রীকেও দায়িত্ব দিয়েছি। এখনও পর্যন্ত তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এটা সেনা জওয়ানদেরও হতে পারে। ওদের ২৭জন তলিয়ে গিয়েছে। এখনও শনাক্তকরণ করা সম্ভব হয়নি”।
এদিকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও খুবই খারাপ। সিকিমের এই বিপর্যয়ের ফলে দার্জিলিং, কালিম্পং-এর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। যখনই জলের স্রোত নিয়ন্ত্রিত হবে, তিস্তার বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করব। প্রাথমিকভাবে সব থেকে বড় কাজ, মানুষকে উদ্ধার করা। দার্জিলিঙ, কালিম্পঙ, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি বেশি প্রভাবিত হয়েছে। ওই সব এলাকা থেকে প্রচুর মানুষকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলায় জেলায় এমন বন্যা পরিস্থিতির কারণে কিছু নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নির্দেশিকাগুলি হল-
- পরিস্থিতিতে নজর রাখতে নবান্নে ২৪*৭ কন্ট্রোল রুম চালু। টোল ফ্রি নম্বর চালু- ০৩৩-২২১৪-৩৫২৬, ১০৭০
- পর্যটন দপ্তরের অফিসে চালু ২৪*৭ কন্ট্রোল রুম। টোল ফ্রি নম্বর- ১৮০০-২১২-১৬৫৫/ ৯০৫১৮৮৮১৭১
- সব জেলায় চালু ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম।
- রাজ্য সরকারের সমস্ত কর্মচারীর ছুটি বাতিল।
- ত্রাণ শিবিরে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- এখনও কোনও প্রাণহানির খবর নেই। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য।
- পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।





