শুধুমাত্র টাকাই খুনের আসল কারণ নয়। বাগুইআটি জোড়া খুনের মামলায় এবার উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সত্যেন্দ্র চৌধুরীর স্ত্রী পূজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় অতনুর। পরে অতনুর ভাই অভিষেকের সঙ্গেও পূজার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সেই ঘনিষ্ঠতার জেরেই দুই কিশোরের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয় সত্যেন্দ্রর, এমনটাই জানা যাচ্ছে তদন্তকারীদের তরফে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে অতনু আর অভিষেকের অনলাইনে সাট্টা খেলায় আসক্তি ছিল। এই গেম খেলেই ৫০ হাজার টাকা জেতে দুই কিশোর। সেই টাকা দিয়েই সেকেন্ড হ্যান্ড হাইস্পিড স্পোর্টস বাইক কেনার পরিকল্পনা করেছিল তারা।
এদিকে সত্যেন্দ্রর বাইকের পার্টস আর সার্ভিসের দোকান থাকায়, ৫০ হাজার টাকায় নামি সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সে। তবে সেই টাকা পাওয়ার পর নাকি বাইক কিনে দেওয়ার পরিবর্তে আরও টাকা চায় সত্যেন্দ্র।
পুলিশ সূত্রে খবর অনুযায়ী, সাট্টা খেলতে গিয়েই নাকি সত্যেন্দ্রর থেকে কয়েক হাজার টাকা ধার করে দুই কিশোর। একদিকে স্ত্রীয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আর অন্যদিকে টাকা ফেরত না পাওয়া, এর জেরে অতনু ও অভিষেকের প্রতি তিক্ততা বাড়ে সত্যেন্দ্রর। পরিকল্পনা করেই সেলফ ড্রাইভ গাড়ি ভাড়া করে সত্যেন্দ্র। ৫ জন ভাড়া করা হয় খুনের জন্য। তদন্তকারীরা ধৃতদের জেরা করে এমনটাই জানতে পেরেছেন।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বাইক কেনার নাম করে রাজারহাট নিয়ে যাওয়া হয় দুই কিশোরকে। সেখানে কোনও বাইক পছন্দ না হওয়ায় সেখান থেকে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে এগোতে থাকে তারা। দুই যুবককে রাস্তাতেই খুন করা হয়। এমন নানান তথ্য উঠে আসছে পুলিশের কাছে।
জানা গিয়েছে, ওই গাড়ি থেকে মিলছে দড়ি। পুলিশ নিশ্চিত যে ওই দড়ি দিয়েই শ্বাসরোধ করে দুই কিশোরকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র এখনও পলাতক। আপাতত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এই ঘটনায়।





