দীপাবলির পরপরই কালীপুজোর বিসর্জন নিয়ে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছিল ভক্তদের ঢল। সব মিলিয়ে চারিদিকে আনন্দের পরিবেশ। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে রূপ নেয় চাঞ্চল্যে। এক বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ঘটে এমন এক ঘটনা, যা চোখ কপালে তুলেছে রাজ্যবাসীর। কর্তব্যরত এক ওসির উপর চলে বেধড়ক হামলা, রাস্তায় পড়ে মার খেতে হয় তাঁকে—এমন দৃশ্য দেখে স্তব্ধ সাধারণ মানুষ।
সূত্রের খবর, ত্রিপুরার বিলোনিয়া ওরিয়েন্টাল ক্লাবের আয়োজিত কালী প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় উচ্চ আওয়াজে বাজছিল সাউন্ড বক্স। যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় ওসি নিজে উপস্থিত হয়ে উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করেন শব্দ কমানোর জন্য। কিন্তু তাঁর সেই কথায় কর্ণপাত করেননি পুজো উদ্যোক্তারা। উৎসবের ভিড়ে চলতেই থাকে উচ্চ আওয়াজে গান বাজানো। শেষ পর্যন্ত ওসি নিজেই মঞ্চের মতো তৈরি করা গাড়িতে উঠে সাউন্ড বক্স বন্ধ করে দেন।
সেই মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে উদ্যোক্তাদের একাংশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওসিকে টেনে হিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে কিল, চড়, লাথি, ঘুষি মারা হয়। রাস্তায় ফেলে একের পর এক আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন পুলিশ আধিকারিক। ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই ভরে ওঠে চিৎকার-চেঁচামেচি আর বিশৃঙ্খলায়।
অবস্থা সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী। তাঁদের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন ক্লাবের সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশকে। অবশেষে সাউন্ড বক্স ও ব্যবহৃত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কেউই এখনও গ্রেফতার হয়নি। তদন্তে নেমেছে বিলোনিয়া থানার পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ Ra*pe:পুলিশের হাতে চারবার ধর্ষণের অভিযোগে হাতের তালুতে লিখে আত্মঘাতী মহিলা ডাক্তার! প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্রের নীরবতা!
অন্যদিকে পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশের দাবি, ওসি তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি শোভাযাত্রায় থাকা এক সঙ্গীত শিল্পীকে তিনি হেনস্থা করেছেন বলেও অভিযোগ। তবে কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিককে যেভাবে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে, তা দেখে বিস্মিত সাধারণ মানুষ। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ। অনেকের প্রশ্ন—“উৎসবের আনন্দ কি এইভাবে আইনকে পিষে ফেলতে পারে?”






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার