মমতার রাজ্যে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু রোগীর, অর্থপেডিকের রোগীকে মেডিসিন বিভাগে রাখার অভিযোগ

দীর্ঘ ৬দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল অর্থপেডিক রোগীর। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও শেষরক্ষা হল না। ২৭শে জানুয়ারি থেকে ২রা ফেব্রুয়ারি কার্যত বিনা চিকিৎসায় পড়েছিলেন রোগী।

ঘটনাটি ঘটেছে খাস কলকাতার বুকে এসএসকেএম হাসপাতালে। প্রায় ২৬ ঘণ্টা টানাপোড়েনের পর গত ২৭শে জানুয়ারি সকালবেলা দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগী রতন শীলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অর্থপেডিক রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয় মেডিসিন বিভাগে। হাসপাতালের তরফে দাবী অর্থপেডিকে কোনও বেড খালি ছিল না।

এদিকে, চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন যে রোগীকে অর্থপেডিকে না ভর্তি করা হলে তাঁর বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু অন্যদিকে অর্থপেডিক বিভাগে জানানো হয় যে তাদের বিভাগে একটিও বেড খালি নেই।

এবার প্রশ্ন ওঠে অর্থপেডিকের সমস্যা থাকা এক রোগীকে কেন মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হল। পেল্ভিস ও HeartCAG ভাঙার পাশাপাশিতাঁর আরও অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তাহলে ওই ব্যক্তিকে কেন ট্রমা কেয়ারে রাখা হল না? কেন মেডিসিন বিভাগে দীর্ঘদিন বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হল? এই প্রসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করেননি। গতকাল একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে রোগী যন্ত্রণায় ছটপট করছেন, তাঁর পরিবারের লোকেরা তাঁর বুকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। এরপর সকালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতের পরিবারের তরফে দেহ নিতে অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁরা দাবী করেছেন যে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান। যে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোদ মুখ্যমন্ত্রী, সেই রাজ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে এই গাফিলতি একেবারেই কাম্য নয়।

উল্লখ্য, গত ২২শে জানুয়ারি পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শিলিগুড়ির বাসিন্দা রতনশীল চন্দ্র। উত্তরবঙ্গ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হলে সেখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকে এসএসকেএম-এ রেফার করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগীকে এসএসকেএমে প্রথমে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ট্রমা কেয়ার জানায় ২২ তারিখ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২৬ তারিখ পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা কেটে যাওয়ায় রোগীকে ট্রমা কেয়ারে রাখা যাবে না । এরপর এমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখান থেকেও রোগীকে ফেরানো হয়।

এরপর রোগীকে প্রথমে আর জি কর ও তারপর এনআরএসেও নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রোগীকে ফের এসএসকেএমে ফিরিয়ে আনে রোগীর পরিবার। সেখানে ২৬শে জানুয়ারি কনকনে ঠাণ্ডায় সারারাত ফেলে হাসপাতালের বাইরে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হস্তখেপে রোগীকে ২৭শে জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বিনা চিকিৎসায় মেডিসিন বিভাগে পড়ে থাকে রোগী। এরপর তাঁর মৃত্যু হয়।

RELATED Articles