দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে উত্তাপ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পরিস্থিতি যেভাবে বদলাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলকেও চিন্তায় ফেলছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদী হামলা বেড়েছে, সীমান্তে সংঘর্ষের খবর থেমে নেই, আর রাজনৈতিক ভাষণেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রাসন—এই সমস্ত মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্ফোরক পরিবেশ। আর এর মাঝেই উঠে এসেছে পাকিস্তানের এক মন্ত্রীর এমন মন্তব্য, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে জানালেন, দেশ তাঁর দুই সীমান্তেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত । যদিও সরাসরি ভারত বা আফগানিস্তানের নাম নেননি, ‘পূর্ব’ ও ‘পশ্চিম’ সীমান্ত বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক মহল বেশ স্পষ্টভাবেই বুঝে গেছে। আসিফের দাবি—আগেও “আল্লাহ সাহায্য করেছে”, এবারও নাকি সেই সাহায্য মিলবে। তাঁর এই মন্তব্যকে বিশেষজ্ঞেরা দেখছেন উসকানিমূলক ভাবেই।
তাঁর এই কঠোর মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক নৃশংস ঘটনা। ইসলামাবাদের মাঝখানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের, আহত বহু মানুষ। দায় স্বীকার করেছে পাক তালিবান—টিটিপি। এই ঘটনার পরই আসিফ দাবি করেন, হামলার মাধ্যমে কাবুল প্রশাসন পাকিস্তানের উদ্দেশে “বার্তা” পাঠিয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার জন্য ভারতের সমর্থনে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করেছেন, কিন্তু আসিফ আবার বলছেন ভিন্ন কথা—আফগান তালিবানের দিকেই আঙুল তুলছেন।
এখানেই শেষ নয়। দিল্লির লালকেল্লার কাছে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হলেও পাক মন্ত্রী সেটিকে “গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ” বলে ছোট করে দেখান। তাঁর অভিযোগ—ভারত ঘটনাটিকে “রাজনীতিকরণ” করছে এবং শীঘ্রই পাকিস্তানকে দোষারোপ করবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য শুধু উত্তেজনা বাড়ায়, সীমান্তের সমস্যার সমাধান আনে না।
আরও পড়ুনঃ Bihar assembly election 2025 : ভোটের আগে আগুনে ঘি! ‘নেপালের মতো গণআন্দোলন হবে’—সুনীল সিংহের মন্তব্যে মামলার ঝড় বিহারে!
অতীতেও খোয়াজা আসিফ এমন মন্তব্য করেছেন—আফগান তালিবান নাকি ভারতের “পুতুল”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চোখ তুললে “উপড়ে নেওয়া হবে” বলেও হুমকি দিয়েছিলেন। দুই দেশের সীমান্তে বিমান হামলা ও পালটা প্রতিশোধে আগেও উত্তেজনা বেড়েছে। যদিও এখন সংঘর্ষবিরতি চলছে, সম্পর্ক এখনও তলানিতে। পাকিস্তানের অভিযোগ—ভারত ও আফগানিস্তানের মদতে টিটিপি পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালায়। অন্যদিকে নয়াদিল্লি ও কাবুল এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।





