আট বছর আগে পার্ক স্ট্রিটে ৩৭ বছর বয়সী এক মায়ের গণধর্ষণ কাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গকে। পাঁচজন মিলে ছিঁড়ে খেয়েছিল ওই মধ্যবয়স্কাকে। তারপর সেই নিয়ে চলে প্রবল জল ঘোলা। তৃণমূল সাংসদ ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তো বলেই দেন যে এই ঘটনা খদ্দেরের সঙ্গে দরাদরির কারণেই হয়েছে! সেই মহিলা যদিও আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, অসুখে ভুগে মারা গিয়েছেন। ধরা পড়েছে পাঁচজন অভিযুক্ত। এরই মধ্যে একজন সুমিত বাজাজ সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছে জেল থেকে তার ভালো ব্যবহারের জন্য। নির্দিষ্ট সময়ের ১ বছর ৮ মাস আগেই সে মুক্তি পেল।
২০১২ সালে যখন সুমিতকে গ্রেফতার করা হয় তখন তার বয়স ছিল ২১ বছর। সুমিতের হণ্ডা সিটিতেই ঘটেছিল এই নৃশংস ঘটনা। তাকে দশ বছরের সাজা শোনানো হয়েছিল। হাওড়ার যে জেলে সে বন্দি ছিল সেখান থেকে জানা গিয়েছে ভালো ব্যবহার করার জন্য তাকে নিয়ম অনুযায়ী আগে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
সুমিতের পরিবার তার মুক্তিতে যথেষ্ট আনন্দিত এবং সুমিতের মা জানিয়েছেন যে পরবর্তীকালে সুমিত কি করবে তা এখনও সে ঠিক করেনি।
জেল কর্তৃপক্ষের থেকে জানা গিয়েছে যে সাধারণত বন্দিদশা শুরু হওয়ার তিন মাস পর থেকেই রিমিশন নামে একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ায় যদি বন্দি জেলের নিয়মানুযায়ী ‘ভালো ব্যবহার’ করে তবে তার বন্দীদশার সময়কাল থেকে তাকে আগে মুক্তি দেওয়া হয়। সুমিত সাধারণত সুপারিনটেনডেন্টের অফিসের কাজকর্ম করত। এছাড়া সে জেলের ভেতর আঁকাআঁকিও করত। এইভাবে সে মোট ৫২৪ দিন রিমিশন সংগ্রহ করেছিল। তাই জেলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার ১ বছর ৮ মাস আগেই সে মুক্তি পেল হাওড়ার জেল থেকে।
তার সঙ্গেই ধরা পড়েছিল তার বন্ধু নাসের খান এবং রুমান খান নামে আরও দুই অভিযুক্ত। তাদেরও রিমিশনের দিন গোনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। গ্রেটার নয়ডা থেকে ধৃত এই ঘৃণ্য ঘটনার মূল অভিযুক্ত কাদের খান ও আর এক অভিযুক্ত আলি পশ্চিমবঙ্গের ভিন্ন দুই জেলে এখনও বন্দী রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।






