‘আমাদের পরিবারের সবাই আলাদা, কারও সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই’, পারিবারিক সম্পত্তিবৃদ্ধি নিয়ে মামলা দায়ের হতেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মমতা

সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নামে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি হিসাব চেয়ে এই মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাকারীর দাবী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত গরীব পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। ছয় ভাই আছে তাঁর। তবে ২০১১ সালের পর থেকে মমতার পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি (possession) অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কীভাবে এই সম্পত্তি বৃদ্ধি হল, তা জানতে চাম অরিজিৎ মজুমদার নামের এক ব্যক্তি। তাঁর হয়ে এই মামলা দায়ের করেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি (Tarunjyoti Tiwari)।

‘আমাদের পরিবারের সবাই আলাদা, কারও সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই’, পারিবারিক সম্পত্তিবৃদ্ধি নিয়ে মামলা দায়ের হতেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মমতা

এই মামলার খবর পেয়েই এর পাল্টা জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, সোমবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। এদিন মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে মমতা বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকার সুবাদে এক লক্ষ টাকা করে পেনশন পেতাম, এক পয়সাও নিইনি। এখনও মাইনে নিই না, এমনকী খুব দরকার ছাড়া সরকারি গাড়ি চড়ারও কোনও দরকার হয় না। এই মামলা এখানে কেন, এই মামলা আন্তর্জাতিক আদালতে হোক”।

হাইকোর্টে করা এই জনস্বার্থ মামলায় বলা হয় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের স্ত্রী কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে প্রার্থী হন। তিনি সেই সময় হলফনামায় দুটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু একাধিক সম্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি বলে জানান মামলাকারী। এর মধ্যে বিপুল টাকার সম্পত্তি যা জলের দামে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্পত্তি পরিমাণ এত কীভাবে বাড়ল, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা করা হয়েছে।

এই মামলার কথা শুনেই বেশ ক্ষুব্ধ হন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, “ওগুলো কি আমার সম্পত্তি? আমরা সবাই আলাদা আলাদা পরিবার। সবাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গিয়েছে। কোনও সম্পর্ক নেই কারও সঙ্গে। শুধু উৎসবের সময় সম্পর্ক। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এসেছে। তারা চাকরি-বাকরি করে ঘরদোর বানিয়েছে। একমাত্র মায়ের দায়িত্ব ছিল আমার। আমার তো সব ডকুমেন্ট দেওয়াই আছে। আমি বলি, এই মামলা এখানে কেন, ইন্টারন্যাশনাল আদালতে হোক”।

এদিন নিজের আয়ের উৎস সম্পর্কেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, “আমি ১ লক্ষ টাকা করে পেনশন ১২ বছর ধরে নিই না, কত টাকা হয়, হিসেব করুক ছাত্র-যুবরা। এখনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকারের থেকে এক পয়সাও নিই না। খুব প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি চড়ার দরকার হয় না। বই কেন বিক্রি করি, তা নিয়ে প্রশ্ন। বুকফেয়ারে খোঁজ নিয়ে দেখুন, কোন বই বেস্টসেলার। লিখে দেখান না ১০০০ কবিতা”।

RELATED Articles