মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় ভোটের প্রচার করতে এবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ল বামেরা। আজ, রবিবার সকালে ভবানীপুর উপনির্বাচনের জন্য বামপ্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসের প্রচারে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশি বাধা পেরিয়ে এগোতে গেলে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় পুলিশের।
কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় আজ বামপ্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসের সমর্থনে ভবানীপুরে প্রচারে জান বামনেতা সুজন চক্রবর্তী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া থেকেই শুরু হয় প্রচার। কিন্তু প্রচারের শুরুতেই বাধা দেয় পুলিশ, ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় রাস্তা।
এই ব্যারিকেড টপকে এগোনোর চেষ্টা করেন বাম নেতারা। তখনই শুরু হয় বচসা। চলে ধাক্কাধাক্কি। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আটকে রাখা হয় বাম কর্মীদের। সুজনদের অভিযোগ, হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে প্রচারে তাদের কাছে অনুমতি ছিল। কিন্তু পুলিশের দাবী, বামেদের অনুমতি নেই। তীব্র বচসার পর বামেদের চাপে পড়ে চার-পাঁচজনকে প্রচারের অনুমতি দেয় পুলিশ।
এই ঘটনা নিয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলে নির্বাচনের সময় কিছু হয় না। নির্বাচনের সময় যে কেউ যেতে পারেন ভোট প্রচারে। মমতা এখন মুখ্যমন্ত্রী নন। এখানে তিনিও একজন ভোটার কিন্তু কেন এখানে পুলিশি এই ঘেরাটোপ”।
তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের গিয়েছি। কমিশন থেকে বলা হয়েছে পুলিশের অনুমতি না দেওয়ার কোনও কারণ নেই। তার পরেও এখানে তিন তিনটে ব্যারিকেড ছিল। প্রথমটি ভাঙতে হল। তার পর দেখা যায় এখানে সাদা পোশাকে রয়েছে কিছু তৃণমূলের গুন্ডা”। তিনি এও অভিযোগ করেন যে তাঁদের প্রার্থী শ্রীজীবের উপরও আঘাত করা হয়েছে।
মমতাকে কটাক্ষ করে সুজন চক্রবর্তী বলেন যে মুখ্যমন্ত্রী কোনও রানি নন আর এটা তাঁর রাজারানির রাজত্ব নয়। ভোটে জেতার অধিকার সকলের রয়েছে। তিনি অভিযোগ আনেন যে তাঁকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসের অভিযোগ, তাদের কাছে পুলিশি অনুমতি ছিল কিন্তু তা সত্ত্বেও এমন ঘটনা ঘটাল পুলিশ। বাংলাতেও উত্তরপ্রদেশের মতো আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে বলে তপ দাগেন সুজন চক্রবর্তী।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং হাজরা রোড ক্রসিংর সঙ্গে থাকা বলরাম বসু ঘাট রোড এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। একথা জানিয়ে গতকাল, শনিবার বাম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসকে একটি মেল করেছিল পুলিশ। এর আগে ভবানীপুরে প্রচার করতে গিয়ে বিজেপিও বাধা পেয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এবার এই একই অভিযোগ করল সিপিএম-ও।





