Nabanna Abhijan : “আমার হাতের শাঁখা ভেঙে দিয়েছে পুলিশ, তারা আমাদের নির্যাতন করছে” — নির্যাতিতার বাবা-মায়ের অভিযোগ!

কলকাতার রাস্তায় শনিবার একটা উত্তেজনাময় দৃশ্যের সাক্ষী হয় জনতা। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা-মা শান্তিপূর্ণভাবে নবান্ন অভিযান করতে চাইছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা পুলিশের বাধায় আটকে যায়। তাদের ওপর গড়িয়ে ওঠে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তি। এই ঘটনার পেছনে রয়েছে একাধিক অভিযোগ ও বিক্ষোভের রেশ, যা এখনো মিটে উঠেনি।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন নির্যাতিতার বাবা-মা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। তাঁদের দাবি, “আমরা নিরস্ত্র, শান্তিপূর্ণভাবে এগোচ্ছি, তবুও পুলিশ আমাদের আটকে দিচ্ছে। আমার হাতের শাঁখা ভেঙে দেওয়া হয়েছে,” — বললেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর মায়ের কপালে লাঠির আঘাতের চিহ্নও স্পষ্ট দেখা যায়। বাধা উপেক্ষা করেও তাঁরা নবান্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়।

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে একাধিক আন্দোলনকারী পার্ক স্ট্রিটে পুলিশি বাধার মুখোমুখি হন। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয় তাঁদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ চালায়। এই প্রতিবাদের জেরে শুভেন্দু অধিকারী ও অগ্নিমিত্রা পাল রাস্তায় বসে অবস্থান নেন এবং স্পষ্ট জানান, নির্যাতিতার বাবা-মার বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না।

ব্যারিকেডের এক পাশে বসে পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে চাইলে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “হাইকোর্ট আমাদের অনুমতি দিয়েছে, তাহলে আটকাচ্ছেন কেন? আমরা শান্তিপূর্ণ মানুষ, আমাদের যেতে দিন।” কিন্তু পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া না পেয়ে তাঁরা সেখানে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত হয়, এবং নির্যাতিতার বাবা-মা সরাসরি ব্যারিকেডে উঠে পড়েন।

আরও পড়ুনঃ গুরুর নক্ষত্র পরিবর্তনে ভাগ্য খুলবে ৩ রাশির, আসছে সুখবর

অবশেষে কপালে জখম নিয়ে নির্যাতিতার মা অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে এদিন কলকাতার বিভিন্ন স্থানে মিছিল, বিক্ষোভ ও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। নবান্ন অভিযানে তাঁরা আশা করেন তাঁদের দাবি ও প্রতিবাদের কথা সরকারি কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছবে। এই ঘটনা এখনও উত্তাপ ছড়াচ্ছে, আর জনমনে চলছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার গুঞ্জন।

RELATED Articles