West Bengal politics : “বিএলওদের উপর জবরদস্তি”— মমতার দাবিতে তোলপাড় প্রশাসন, পালটা শুভেন্দুর প্রশ্ন- ‘নির্বাচন কমিশনকে চাপে ফেলে কার ভোটকে রক্ষা করছেন?’

রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের কাজে নিয়োজিত বিএলওদের উপর অতিরিক্ত চাপ, অসুস্থতা–সহ বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসছে। এমন অবস্থায় প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক মহল—সবার নজর গিয়ে পড়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো একটি চিঠিতে। কিন্তু সেই চিঠিকেই ঘিরে এবার তৈরি হয়েছে বড়সড় বিতর্ক, যার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএলওদের উপর অযথা চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তাঁর মত। কৃষিকাজে ব্যস্ত সময়ে এই প্রক্রিয়া চালানো “অযৌক্তিক”—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। পাশাপাশি দাবি করেন, শোকজের ভয় দেখিয়ে মাঠকর্মীদের মানসিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু এখানেই শুরু রাজনৈতিক তরঙ্গের।

মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিকে তিনি একেবারেই গঠনমূলক বলে মনে করেননি। তাঁর বক্তব্য, “এটি মানুষের নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নষ্ট করার জন্যই লেখা।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘ঘর ছাড়ার হুড়োহুড়ি’ এবং হাকিমপুর সীমান্তে ভিড় বাড়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে ‘অবৈধ ভোটব্যাঙ্ক’ সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নাকি অতীতে বিএলওদের হুমকি দিয়েছিলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য তাঁর চিঠিতে জোর দিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ে—বিএলওদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতির দিকে। তিনি উল্লেখ করেছেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিইও দফতর পরিস্থিতির জটিলতা বুঝতে চাইছে না বলে তাঁর বক্তব্য। ফলে, সময়সীমা না বাড়িয়ে উল্টে মাঠকর্মীদের ‘ভয়’ দেখানো হচ্ছে—এমন দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ Breaking : রিখটার স্কেলে ৫.৫ ! তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ বাংলা!

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি—এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করে সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ—এটি মূলত ভোট রাজনীতি রক্ষারই কৌশল। দুই পক্ষের তীব্র অভিযোগ–প্রত্যাগ্রহে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন নজর নির্বাচনি কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা দেখতেই অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles