বিহারের ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে যেন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পর বিরোধী শিবির যে আত্মবিশ্বাসী পরিবেশ তৈরি করেছিল, সাম্প্রতিক ফলাফলের পর তা খানিকটা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষত, ইন্ডিয়া জোটের ভেতরে নানা দলের ক্ষোভ, অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে—যদিও বাইরে প্রকাশ্যে কেউ খুব একটা মন্তব্য করতে চাইছে না।
রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসছে একটাই প্রশ্ন—জোটের সর্ববৃহৎ দল হয়েও কংগ্রেস কি এই মুহূর্তে জোটের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে উঠছে? বেশ কয়েকটি শরিক দলের অভিযোগ, কংগ্রেস নিজে বিজেপিকে হারাতে পারছে না, আবার অন্য দলগুলিকে সাহায্য করতেও ব্যর্থ। বিহারের ফলের পর এই ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়েছে। সূত্র বলছে, কয়েকটি আঞ্চলিক দল বিকল্প রাজনৈতিক রাস্তাও ভেবে রাখছে। যদিও এই মুহূর্তে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছে না।
ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে সবচেয়ে আগে। বিহারের ভোট চলাকালীনই তারা অভিযোগ তোলে, জোটের নেতারা তাদের জন্য একটিও আসন ছাড়েননি। জেএমএম মনে করছে, ইন্ডিয়া জোটে আঞ্চলিক শক্তির মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আগামী দিনে স্বাধীনভাবে পথ চলার কথাও দলটি ভাবছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে সমস্যাও কম নয়—ঝাড়খণ্ডে তাঁদের সরকার কংগ্রেসের সমর্থনের উপর নির্ভরশীল, তাই এখনই জোট ভাঙা সহজ নয়।
শুধু জেএমএম নয়, উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীও ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের একতরফা সিদ্ধান্তে। অভিযোগ—কোথায় জোট হবে, কোথায় একক লড়াই হবে, সবটাই কংগ্রেসের প্রদেশ নেতারা নিজেদের মতো ঠিক করছে। বিশেষত, মুম্বই পুরনিগম নির্বাচনে কংগ্রেসের একা লড়ার ঘোষণা উদ্ধব শিবিরের অস্বস্তিকে আরও বাড়িয়েছে। তাদের মতে, এতে বিজেপিরই লাভ হবে। একই সুর শোনা যাচ্ছে সমাজবাদী পার্টির গলাতেও—তাদের দাবি, কংগ্রেসের সাংগঠনিক পুনর্গঠন এখন ভীষণ জরুরি।
আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : “বিএলওদের উপর জবরদস্তি”— মমতার দাবিতে তোলপাড় প্রশাসন, পালটা শুভেন্দুর প্রশ্ন- ‘নির্বাচন কমিশনকে চাপে ফেলে কার ভোটকে রক্ষা করছেন?’
সবশেষে, কংগ্রেস শিবিরেও নাকি স্বীকারোক্তি আছে—বিহারের ফল দলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। লোকসভার পর সামান্য যে ইতিবাচক হাওয়া তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই উল্টে গিয়েছে। বিশেষ করে পরপর হিন্দি বলয়ে খারাপ ফল ভবিষ্যতে জোটে দর-কষাকষির ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দিতে পারে। এখন দেখার, এই অস্থিরতার মধ্যেও ইন্ডিয়া জোট কি নিজেদের একজোট রাখতে পারে, নাকি সামনে আরও বড় ভাঙন অপেক্ষা করছে।





