নতুন বছরের শুরুতে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী মানেই সিমলা স্ট্রিটে ভিড়, শ্রদ্ধা আর স্মৃতির আবহ। কিন্তু এবার সেই আবহের মধ্যেই ঢুকে পড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। যাঁর আদর্শে রাজনীতি ছাপিয়ে মানুষ, মানবতা আর আত্মমর্যাদার কথা উঠে আসে, তাঁর জন্মদিনেই যেন রাজনীতির ছায়া আরও গাঢ় হয়ে উঠল। সকাল থেকে সিমলা স্ট্রিটে একের পর এক নেতা-নেত্রীর উপস্থিতি, ফুল, মালা, শ্রদ্ধার্ঘ্য—সব মিলিয়ে পরিবেশ ছিল জমজমাট। তবে সেই ভিড়ের মধ্যেই চোখে পড়ে এমন কিছু, যা নিয়ে শুরু হয়ে যায় চাপানউতোর।
এরপরই নজরে আসে স্বামীজির বাড়ির সামনের রাস্তা জুড়ে টাঙানো একাধিক বড় পোস্টার। পোস্টারগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, আর নিচে বড় অক্ষরে লেখা—‘স্বাগতম যুবরাজ’। জন্মজয়ন্তীর দিনে এমন পোস্টার ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শ্রদ্ধা জানাতে এসে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই চর্চা বাড়ে। উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বললেও, রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে যায় আলোচনা।
এই বিতর্কে সরাসরি আক্রমণে নামেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দই একমাত্র ‘যুবরাজ’, অন্য কেউ নন। স্বামীজির জন্মভিটেতে অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতার ছবি লাগানো মানেই সেই আদর্শকে খাটো করা। শুভেন্দুর দাবি, সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ির দায়িত্বে থাকা প্রধান মহারাজ আগেই কাউন্সিলরদের জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই এলাকায় অন্য কোনও ব্যক্তির ছবি বা পোস্টার দেওয়া যাবে না। তা সত্ত্বেও সেই নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিতর্কে আরও ঘি ঢালেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথাগত রায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ পোস্টারকে তিনি ‘নিম্নরুচির পরিচয়’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর কটাক্ষ, সব কিছুর মধ্যে রাজনীতি টেনে আনার এই প্রবণতা তৃণমূল কংগ্রেস সিপিএমের কাছ থেকেই শিখেছে। স্বামীজির মতো একজন মহাপুরুষের জন্মদিনেও যদি এই ধরনের পোস্টার লাগে, তবে তা সমাজের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিজেপির একাধিক নেতা-নেত্রী এই ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ Iran Gen-Z :লায়ন অ্যান্ড সান পতাকা ঘিরে নতুন চ্যালেঞ্জ—ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে কেন মুখ খুলছে ইরানের তরুণ প্রজন্ম?
অন্যদিকে, এই বাগ্যুদ্ধের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বামেদের মন্তব্যে। বিজেপি ও তৃণমূলের এই টানাপোড়েনকে কটাক্ষ করে তারা দুই দলকেই নিশানা করে। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ রাজনীতির ঊর্ধ্বে—এই বক্তব্য সামনে এনে বামেরা প্রশ্ন তোলে, আদর্শের নাম করে কি আদৌ রাজনৈতিক প্রচার হওয়া উচিত? সব মিলিয়ে স্বামীজির জন্মজয়ন্তীর দিনটি এবার শুধু শ্রদ্ধার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং রাজনৈতিক তরজায় আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল সিমলা স্ট্রিটের বাস্তবতা।






