কলকাতার বিধানসভা ভবন, রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং ইতিহাসের সাক্ষী। অথচ সেই প্রাচীন ভবন নিয়েই এখন শহরজুড়ে কানাঘুষো। কেউ বলছেন, রাত নামলেই নাকি শুনতে পাওয়া যায় অদ্ভুত খুটখাট শব্দ, আবার কেউ বলছেন—সবই গুজব। ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করতেই এই শীতের মরসুমে ভয় আর কৌতূহল যেন পাশাপাশি হাঁটছে বিধানসভা চত্বরজুড়ে। নিরাপত্তারক্ষীদের মুখেই শোনা যাচ্ছে রহস্যময় সব অভিজ্ঞতা।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজো, কালীপুজো আর ভাইফোঁটার দীর্ঘ ছুটির পরে ভবনটি প্রায় ফাঁকা ছিল। সেই সময় থেকেই নাকি রাতের দিকে শোনা যাচ্ছে নানা রকম শব্দ—কখনও দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ, কখনও বা পায়ের আওয়াজ। দোতলার বিজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষের সামনে এই আওয়াজ সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, মাঝে মাঝে যেন কেউ অচেনা ভঙ্গিতে পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কেউ সরাসরি কিছু দেখেননি, তবুও এই রহস্যময় অনুভূতি রাতের ডিউটিকে আরও ভয়পূর্ণ করে তুলেছে।
বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের একাংশ স্পষ্ট বলেছেন—এ সব কেবলই ভুল ধারণা। তাঁদের মতে, এত বড় ভবনে আলো-আঁধারিতে ইঁদুর, ছুঁচো, এমনকি ভামবিড়ালের আনাগোনাই এসব শব্দের কারণ হতে পারে। বহু পুরনো কাঠামোর দেওয়াল, জানালা ও মেঝে থেকেও এমন আওয়াজ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও হাসতে হাসতে বলেছেন, “বিধানসভা এত বড় জায়গা, একটু ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। তবে সেটা ভূতের ভয় কি না, তা বলা মুশকিল।”
ভূতের গল্প কিন্তু কলকাতার নতুন নয়। টাউন হল, হেস্টিংস হাউস, এমনকি মহাকরণ—সব জায়গাতেই এমন গুঞ্জন শোনা গিয়েছে। প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় নিজেও একাধিকবার বলেছিলেন, তিনি নাকি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ভূতের দেখা পেয়েছিলেন! এমনকি জরুরি অবস্থার সময় নাকি এক আত্মঘাতী পুলিশ কনস্টেবলের আত্মা তাঁকে রাতে বারবার দেখা দিত। সেই থেকেই নাকি সুব্রতবাবু ঘরের আলো জ্বালিয়ে ঘুমোতেন। ফলে ‘ভূতের কাহিনি’ যে এই শহরে নতুন কিছু নয়, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুনঃ Astrology: Shani Guru Lucky Rashi 2026! একসঙ্গে সদয় শনি ও গুরু, রাজত্ব করবে এই তিন রাশি!
গবেষক হরিপদ ভৌমিকের মতে, ভূতের উপস্থিতির জন্য বিশেষ পরিবেশের প্রয়োজন—শ্যাওড়া গাছ, এঁদো পুকুর, আর আলো-আঁধারির সমাহার। আধুনিক কলকাতায় এমন পরিবেশ প্রায় নেই বললেই চলে। তাই এই ‘ভূতের গল্প’ মানসিক চাপের ফলও হতে পারে। তবে রসিক রাজনীতিকদের মতে, “এই রাজ্যে ভূতও নেই, ভবিষ্যৎও নেই!” সত্যি-মিথ্যে যাই হোক না কেন, বিধানসভা ভবনের রাত এখন যেন একটু বেশিই রহস্যময়—আর সেই রহস্যের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে প্রশ্নটা ভূত সত্যিই আছে, না সবটাই মনের ভয়?






