কলকাতার ক্রীড়াজগতের এক বহুচর্চিত ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি—ধীরে ধীরে তার প্রভাব পড়ছে আদালত চত্বর, প্রশাসন ও রাজ্য রাজনীতির পরিসরেও। রবিবার সকালে বিধাননগর মহকুমা আদালতের সামনে যে ছবি ধরা পড়ল, তা পরিস্থিতির গুরুত্ব নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
সেই দিনই যুবভারতী কাণ্ডে ধৃত মূল অভিযুক্ত শতদ্রু দত্তকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে তোলা হয়। শুনানি চলাকালীন তাঁর পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ করে দেন বিচারক। আদালতের নির্দেশে শতদ্রু দত্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। তবে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন আদালতের বাইরের পরিস্থিতিই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। শতদ্রুকে আদালতে তোলার সময় বাইরে থেকে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে, জুতো হাতে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনার সূত্রপাত যুবভারতীর সেই বহুল আলোচিত অনুষ্ঠানে। যেখানে আন্তর্জাতিক তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা আগমন ঘিরে প্রবল ভিড় ও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় অশান্তি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায়, যার মধ্যে কয়েকটি জামিন অযোগ্য, মামলাও রুজু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এদিন আদালতে শতদ্রুর আইনজীবী তাঁর সাফাইয়ে বলেন, “আয়োজক ও ইভেন্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব এক নয়। মেসিকে আনার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য মহৎ ছিল, কিন্তু তিনি পরিস্থিতির শিকার।” যুবভারতীতে ভাঙচুরের ঘটনায় শতদ্রু দত্তের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশৃঙ্খলার দায় দর্শকদের একাংশের উপরও চাপানো হয়, যাঁদের আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মত আইনজীবীর।
আরও পড়ুনঃ Messi GOAT Event Chaos : “গ্রেফতার করা উচিত মমতাকে” — মেসি ট্যুরে সল্টলেক স্টেডিয়ামে চরম বিশৃঙ্খলার জন্য বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দায়ী!- অভিযোগ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা’র!
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি এদিন যুবভারতী স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে। কমিটিতে রয়েছেন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ক্রীড়া সচিব রাজেশ সিনহা সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। যৌথভাবে তাঁরা স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেন। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই কাণ্ডের শেষ অধ্যায় এখনও অনেক দূরে।





