বাগুইআটির (Baguiati incident) দুই পড়ুয়ার অপহরণ ও খুনের ঘটনায় এখন গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের (police) গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। আর এর জেরে বেশ চাপের মুখে পড়েছে শাসক শিবির (TMC)। প্রথমত, দুই পড়ুয়ার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ডায়েরি নিতেই চায়নি বাগুইআটি থানা। আর দ্বিতীয়ত, দুই পড়ুয়ার লাশ পাশের জেলার মর্গ থেকে কীভাবে উদ্ধার হল্ম আর তার কোনও খোঁজই পেল না পুলিশ, সে নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এবার দুই পড়ুয়ার খুনের ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়। গতকাল, রবিবার বরাহনগর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রছাত্রীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সৌগত রায়। সেখানেই তিনি বলেন যে বাগুইআটিতে যে দুই স্কুল পড়ুয়া দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন অন্তত ড্রা’গের নেশা করত।
তৃণমূল সাংসদের দাবী, “একটা ছেলে বাইক কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা পায় কোথা থেকে? ওদের বাড়ি গিয়েছিলাম। বাবা-মা দুঃখ করছে। ওদের ধরা হয়েছে। একটা ছেলে, ১৬ বছর বয়স। সে এন ১০ ট্যাবলেট খেত”।
সৌগত রায়ের কথায়, “বাইক কেনার জন্য কীভাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা পায়! আমি হলে তো ছেলেকে দিতে পারতাম না। ছেলেরা ভুল পথে যাচ্ছে। আমরা চাইছি যেসব ছেলে বিপথে যাচ্ছে তারা সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুক। ছেলেরা এমন কিছু না করুক যাতে তাদের বাবা-মাকে লজ্জায় পড়তে হয়”।
প্রসঙ্গত, গত ২২শে আগস্ট বাগুইআটির দুই স্কুল পড়ুয়া অভিষেক নস্কর ও অতনু দে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাঁর দু’জনই বাগুইআটির হিন্দু বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। সম্পর্কে তারা তুতো ভাই। তাদের খুঁজে না পাওয়ায় গত ২৪শে আগস্ট বাগুইআটি থানায় অভিযোগ জানায় দুই পড়ুয়ার পরিবার। তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
কিন্তু এতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ জানানো প্রায় ১১ দিন পর বসিরহাটের মর্গ থেকে দুই পড়ুয়ার মৃতদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনার আংশিক কিনারা করতে পেরেছে বিধাননগর পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর অনুযায়ী, দুই পড়ুয়াকে পূর্বপরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল এই পরিকল্পনা।





