দীপাবলির আলোয় আলোকিত বাংলার মাটিতে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। কারও হাতে মানত করা লাল সুতো, কারও চোখে ভরসা— ‘মা সার্ভিস কালী’-ই দেবে চাকরির আশীর্বাদ। সরকারি চাকরি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় এই দেবীর আশীর্বাদেই— এমন বিশ্বাসই বুকভরা আশা নিয়ে হাজার হাজার ভক্তকে টেনে আনছে বাঁকুড়ার সোনামুখীতে।
প্রতিবছর দীপাবলির রাতে সোনামুখীর ধর্মতলা এলাকা যেন উৎসবের শহরে পরিণত হয়। আলোর ঝলকানি, ঢাকের শব্দ, আর তার সঙ্গে মানতকারীদের ভিড়। কেউ প্রথমবার আসছেন, কেউ এসেছেন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে। প্রচলিত মা সার্ভিস কালীর কাছে যারা চাকরির প্রার্থনা করেন, তাদের ইচ্ছা পূরণ হয়। গত বছর দু’জন মানত করে সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন— এ বছর তাঁরাও কৃতজ্ঞতা জানাতে ফিরছেন মায়ের মন্দিরে।
সোনামুখীর এই পুজো আজ প্রায় ৮৫ বছরের পুরনো। কিন্তু কেন এই অদ্ভুত নাম? স্থানীয়দের মতে, প্রায় ১৯৪০ সালের দিকে এলাকার কিছু যুবক সরকারি চাকরির আশায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বেকারত্বে হতাশ সেই তরুণেরা মা কালীকে মানত করেছিলেন— চাকরি হলে প্রতি বছর মহাধুমধামে পুজো দেবেন। অবশেষে তাঁদের স্বপ্ন সফল হয়। তখন থেকেই শুরু হয় এই বিশেষ পুজো— আর নাম দেওয়া হয় “সার্ভিস কালী”। কেউ কেউ বলেন, প্রথমে এক ব্যক্তি বাসের লাইসেন্স করাতে না পেরে মানত করেছিলেন— তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
“বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর”— এই প্রবাদ যেন সার্ভিস কালী মন্দিরে প্রতিদিন নতুনভাবে সত্যি হয়ে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আসেন যুবক-যুবতীরা, অনেকেই সরকারি চাকরির আশায় মানত করেন। কেউ হাতে লাল সুতো বেঁধে, কেউ কপালে সিঁদুর মেখে মায়ের সামনে প্রার্থনা করেন। বিশ্বাস করেন— মা সার্ভিস কালী তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ফল সঠিক পথে পৌঁছে দেবেন।
আরও পড়ুনঃ Kalyan on Sukanta:“আয় তুই শ্রীরামপুরে… তারপর তুই ঘরে ফিরিস কীভাবে দেখব”– কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম সুকান্ত মজুমদারের বিতর্কের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা!
এ বছরও দীপাবলির দিনে সোনামুখীতে ভক্তদের ঢল নামবে বলে অনুমান স্থানীয় প্রশাসনের। প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা, আর নিত্যপ্রাণ ভোগ— সবই প্রস্তুত। মন্দির চত্বরে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থাও। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “যত বছর যাচ্ছে, ততই মায়ের মাহাত্ম্য বাড়ছে।” ভক্তদের বিশ্বাস একটাই— মায়ের আশীর্বাদে পূর্ণ হয় স্বপ্ন, মেলে চাকরির সুযোগ। হয়তো এটাই বিশ্বাসের শক্তি, যা আজও অগণিত হৃদয়ে আলো জ্বেলে রাখে।





