swarup biswas : যুবভারতী বিতর্কে নতুন মোড়! দাদার পাশে স্বরূপের সাফাই, গ্রেপ্তারির দাবিতে সরব বিরোধীরা!

যুবভারতীর সেই দিনের পর থেকে প্রশ্ন যেন পিছু ছাড়ছে না। ক্রীড়াপ্রেমী হোক বা রাজনীতি-সচেতন সাধারণ মানুষ—সবার মনে একটাই কৌতূহল, এত বড় আয়োজন কীভাবে এমন বিশৃঙ্খলায় বদলে গেল। বাইরে থেকে দেখলে অনেকের কাছেই বিষয়টি শুধু একটি তারকা অনুষ্ঠান ঘিরে হইচই মনে হতে পারে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে কত স্তরের পরিকল্পনা, দায় আর সিদ্ধান্ত জড়িয়ে রয়েছে, তা ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি, বরং প্রতিদিন নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা। অভিযোগ, উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের সঙ্গে মন্ত্রীর একাধিক বৈঠক হয়েছিল। নিরাপত্তা, প্রোটোকল, দর্শক নিয়ন্ত্রণ—সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জায়গায় ক্রীড়া দপ্তরের পরামর্শ ছিল বলেই দাবি একাংশের। তাহলে কেন শেষ মুহূর্তে এত বড় গলদ? যদি দপ্তরের কোনও নির্দেশ মানা না হয়ে থাকে, তা আগেভাগে আঁচ করা যায়নি কেন—এই প্রশ্নগুলিরই স্পষ্ট জবাব চাওয়া হচ্ছে। অথচ এখনও পর্যন্ত মন্ত্রীর তরফে সরাসরি কোনও ব্যাখ্যা আসেনি।

এই আবহে সোমবার দাদার পক্ষে সুর চড়ালেন অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, মেসির মতো আন্তর্জাতিক তারকার অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ও ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতি প্রোটোকল অনুযায়ী স্বাভাবিক। তাঁরা না থাকলে সমালোচনা হতো বলেই তাঁর দাবি। মাঠে নিজে উপস্থিত না থাকায় ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি স্বরূপ। তবে তিনি স্বীকার করেন, পুরো বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক এবং আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন ছিল। উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকেই তিনি মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।

তবে সমালোচনার তীর এখানেই থামেনি। শনিবার যুবভারতীতে স্বরূপের স্ত্রী ও দুই মেয়ের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ দর্শক যেখানে টিকিট কেটেও বঞ্চিত, সেখানে মন্ত্রীর পরিবারের উপস্থিতি স্বাভাবিক কি না। বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ক্রীড়ামন্ত্রীর ভাইয়ের পরিবার মাঠে কী করছিল। তাঁর অভিযোগ, এই প্রভাবশালী উপস্থিতির কারণেই বহু মানুষ মেসি দর্শনের সুযোগ পাননি। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সুরেও একই দাবি—শতদ্রু দত্তের পাশাপাশি অরূপ বিশ্বাসকেও গ্রেপ্তার করা হোক।

আরও পড়ুনঃ Lionel Messi Chaos: যুবভারতী কাণ্ডে ডিজি রাজীব কুমার-সহ তিন শীর্ষ পুলিশ কর্তার কাছে শোকজ নোটিস তদন্ত কমিটির!

এদিকে শতদ্রু দত্ত গ্রেপ্তার হয়ে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে থাকলেও ক্রীড়ামন্ত্রীকে কবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে, সে প্রশ্নে পুলিশ এখনও নীরব। বিধাননগর কমিশনারেটের কর্তারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। পুলিশের তরফে বলা হচ্ছে, আয়োজকদের সঙ্গে আগের দিন বৈঠকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা মানা হয়নি। তবে স্টেডিয়াম ক্রীড়া দপ্তরের অধীন—জলের বোতল নিষিদ্ধ থাকার পরও কীভাবে ঢুকল, কীভাবে চড়া দামে বিক্রি হলো, সে দায় এড়ানো যায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। সোমবার রাতেই গোটা ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে বিধাননগরের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই ঘটনার পর্দার আড়ালে এখনও অনেক অজানা গল্প রয়ে গেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles