রাজ্যে ফের রাজনৈতিক তাপমাত্রা চড়তে শুরু করেছে। ভোটের হাওয়া এখনই বইছে না, কিন্তু রাজনীতির মাটিতে নড়াচড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ আজ থেকেই বাংলায় শুরু হচ্ছে ‘এসআইআর’(SIR)— অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযান। গতকাল এই বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর (Election Commission of India) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার পর আজ সকালে আহ্বান করা হয়েছে সর্বদল বৈঠক। ফলে প্রশাসনিক কর্মচাঞ্চল্যের সঙ্গে রাজনীতির মাঠও গরম হয়ে উঠেছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। শাসক দল থেকে বিরোধী – প্রত্যেকেই এই প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। কেউ বলছেন, এই ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম রাজ্যের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও মজবুত করবে, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, নির্বাচনী উদ্দেশ্যেই কি এই সময় নির্বাচন কমিশন এমন ঘোষণা করল? বিশেষত বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সঠিক ভোটারদের নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই আজকের সর্বদল বৈঠক ঘিরে প্রত্যাশা ও উত্তেজনা দু’টোই সমানতালে চলছে।
রাজ্য নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে, আজকের বৈঠকে সব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটার তালিকা যাচাই-এর সময়সূচি, পদ্ধতি ও দায়িত্ব বণ্টন নির্ধারণ করা হবে। জেলা প্রশাসন, বুথ-লেভেল অফিসার (BLO) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভোটারদের তথ্য পুনরায় যাচাই করতে। সূত্র অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রক্রিয়া। প্রতিটি ভোটারকে সুযোগ দেওয়া হবে নিজের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় নথি মিলিয়ে দেখার।
রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলা থেকে ব্লক, ব্লক থেকে বুথ—সব জায়গাতেই কর্মীদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে থাকবে তথ্য-সংশোধনের ডেক্স । যারা নতুন ভোটার, তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, কমিশন অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজে কাজ সেরে ফেলতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ SIR: ভোটার তালিকা নিয়ে তুঙ্গে রাজনীতি! মঙ্গলবার থেকে বাংলায় SIR শুরু, মমতার হুঁশিয়ারি— “একজনের নাম বাদ পড়লেও প্রতিবাদে কাঁপবে দিল্লি!”
আজকের বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী। রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া আগামী মাসগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভোটার তালিকা যে কোনও নির্বাচনের মূল ভিত্তি, তাই সেটি নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আজকের বৈঠক ও প্রস্তুতি দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট — রাজ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার প্রভাব আগামী দিনেই বোঝা যাবে।





