ঢেলে সাজানো হচ্ছে কালীঘাটের মন্দির, দক্ষিণেশ্বরের আদলে বানানো হচ্ছে স্কাইওয়াক, পয়লা বৈশাখের আগেই শেষ হবে কাজ

কালীঘাট মন্দিরের কথা মনে হতেই যেন চোখের সামনে সরু গলির ভিতর সেই ডালার দোকানগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। ভক্তদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা হয় না কোনও উৎসব-পার্বণে। এবার সেই দুশো বছরেরও পুরনো কালীঘাট মন্দির সেজে উঠছে নতুন সাজে। মন্দিরের চূড়ায় বসছে সোনার পাত, তৈরি হচ্ছে দক্ষিণেশ্বরের আদলে স্কাইওয়াক। চলতি বছরের পয়লা বৈশাখের মধ্যেই কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পয়লা বৈশাখে প্রচুর ভক্তদের সমাগম হয় এই মন্দিরে। সেই কারণে এপ্রিলের মধ্যেই স্কাইওয়াক তৈরির কাজ সেরে ফেলাআর চেষ্টা চলছে যাতে ভক্তরা পয়লা বৈশাখে পুজো দিতে এসে তা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও গোটা মন্দির চত্বরই সংস্কারের কাজ চলছে।

কালীঘাট মন্দিরের স্কাইওয়াকের কাজ শুরু হয় গত বছরের জানুয়ারি মাসে। কিন্তু সেখানে ঘিঞ্জি এলাকা, মাটির নীচ দিয়ে যাওয়া ব্রিটিশ আমলের পাইপ অক্ষত রেখে কাজ করতে হয়েছে। সেই কারণে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হয়নি। মাঝে রিলায়েন্সকে কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

কিছুদিন আগেই শোনা যাচ্ছিল যে কালীঘাট মন্দির সংস্কারের কাজ নাকি দেওয়া হয়েছে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীকে। এই বিষয়ে পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান যে মন্দির সংস্কারের কাজ কিন্তু রাজ্য সরকারই করছে।  ফিরহাদের বক্তব‌্য, “সব এসে রিলায়েন্স করছে, এমনটা ঠিক নয়। ওরা সোনার মুকুট লাগাতে পারে। কিন্তু কালীঘাট মন্দির সংস্কারের সিংহভাগ কাজ পশ্চিমবঙ্গ সরকার করছে”।

সূত্রের খবর, কালীঘাটে পরিকাঠামো তৈরির জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১৮ কোটি টাকা খরচ করেছে। স্কাইওয়াকের জন‌্য সবমিলিয়ে প্রায় ১১২ কোটি টাকা খরচ ধরে রাখা হয়েছে। এদিন ফিরহাদ হাকিম জানান, এই মোট খরচের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৫০ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই শেষ হবে স্কাইওয়াকের কাজ।  

জানা গিয়েছে, গত বছর কালীপুজোর পর মন্দির ও গর্ভগৃহ সংস্কারের কাজ শুরু হয়। এই মুহূর্তে ভোগঘর, গর্ভগৃহ, মন্দিরের চাতাল, কুণ্ডপুকুর, শিবমন্দির-সহ মন্দিরের ভিতর ও বাইরের সংস্কারের কাজ চলছে।  

RELATED Articles