রাজনীতি থেকে লম্বা বিরতির পর ফের সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম ভরসা বলে পরিচিত শোভন আবার ঘুরে দাঁড়ালেন রাজ্য রাজনীতির মাঠে। দুর্গাপুজোর পরেই ঘোষণা হয়, তাঁকে ‘নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ বা এনকেডিএ-র চেয়ারম্যান করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ তো শুধু শুরু। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তৃণমূলের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে চলেছেন ‘দিদির কানন’ নামে পরিচিত শোভন। এই নিয়োগ তাই অনেকের চোখেই রাজনৈতিক ‘হোমকামিং’ বা ঘরে ফেরা।
শোভনের জীবনে এই নতুন অধ্যায়কে ঘিরে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা গেল তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। এখনও আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি বলে শোভন ও বৈশাখীর বিয়ে হয়নি। কিন্তু তারা বহু বছর ধরেই একসঙ্গে থাকেন, এবং একে অপরকে জীবনের পরিপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে মেনে নিয়েছেন। শোভনের নতুন দায়িত্বকে কেন্দ্র করে তাই বাড়িতে ছোট্ট কিন্তু আবেগঘন উদযাপন হল। বৈশাখীর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ছবিগুলো থেকেই স্পষ্ট, এ শুধু রাজনৈতিক পদ পাওয়ার আনন্দ নয়—এ যেন জীবনের লড়াই জিতে ফের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর উদযাপন।
ছবিতে দেখা যায়, কালো পোশাকে টুইনিং করেছেন শোভন-বৈশাখী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বৈশাখীর মেয়ে মেহুল—সবসময় আদর করে যাকে ‘দুষ্টু’ বলে ডেকে থাকেন শোভন। টেবিলে চকোলেট কেক, তার উপর লেখা ‘Congratulations’। মিষ্টি হাসিতে ভরা মুহূর্তের মাঝেই ধরা পড়েছে এক অন্তরঙ্গ দৃশ্য—শোভনের গালে চুমু খাচ্ছেন বৈশাখী। সেটি ভালোবাসার চেয়ে বেশি এক প্রতিশ্রুতি, এক সঙ্গীকে চরম দুঃসময়েও পাশে থাকার ঘোষণা যেন।
কিন্তু আসল গল্পটা ছবির চেয়েও গভীর। বৈশাখীর দেওয়া বার্তাটি চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি লিখেছেন— “অভিনন্দন শোভন। তোমার সাফল্য, হাসি এবং শক্তি কামনা করি। তোমার রাজনৈতিক শোকবার্তা যারা লিখেছিল, তারাই আজ তোমাকে আবার নতুন করে দেখতে বাধ্য হবে। জীবনে আমরা উত্থান-পতন, অপমান-আঘাত সব দেখেছি। কিন্তু আমাদের ভালোবাসা আর ধৈর্য আমাদের শক্তি। তুমি প্রমাণ করবে যে ছাই থেকে আগুনের মতোই মানুষ ফিরতে পারে। মনে রেখো—ভালোবাসাই হল সব ধরনের ঘৃণার একমাত্র উত্তর।”
এই বার্তায় যেমন অনুপ্রেরণা আছে, তেমনই লুকিয়ে আছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। একসময় রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হওয়া, ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাই, বিতর্ক—সব কিছুকে পেরিয়ে সামনে তাকানোর সংকল্প ফুটে উঠেছে এই কথায়।
আরও পড়ুনঃ Israel attacks Gaza : ট্রাম্পের শান্তিচুক্তি চুক্তি ভেঙে যুদ্ধের ঘোষণা? গাজায় ফের বোমা বর্ষণ ইজরায়েলের!
রাজনৈতিক দিক থেকে শোভনের প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের পরিকল্পনায় নতুন মোড় আনবে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু ব্যক্তিগত এক যুদ্ধে তিনি অন্তত জয়ী। তাঁর আজকের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত রইল বৈশাখীর অবিচল সঙ্গ এবং ভালোবাসা—যা তাঁর কথায়, সব বিদ্বেষের একমাত্র উত্তর। এখন দেখার, রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে শোভন কতটা প্রমাণ করতে পারেন যে সত্যিই তিনি ফিরে এসেছেন।





