মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আবহ। কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে, সেই যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব টিকল না বেশি দিন। গাজার আকাশে ফের ধোঁয়া, বিস্ফোরণ আর আতঙ্কের ছায়া। শান্তির বার্তা ছাপিয়ে ফের শোনা যাচ্ছে যুদ্ধের সাইরেন।
চুক্তির পর থেকে কিছুটা সময় এলাকা জুড়ে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু হঠাৎই ফের আঘাত হানল ইজরায়েলি বিমানবাহিনী। সূত্রের খবর, হামাস নাকি সংঘর্ষবিরতি ভেঙে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছিল। সেই অভিযোগেই রাফা ও দক্ষিণ গাজ়ার বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা চালায় ইজ়রায়েলি বাহিনী। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাতে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা গাজা শহর।
‘আল জাজিরা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কার্টজের মধ্যে ফোনে আলোচনার পরই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, “যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার নামে হামাস গোপনে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।” তাই আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল বলেই মত সরকারের।
মার্কিন বিদেশ দফতরও জানিয়েছে, তারা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছে যে হামাস নতুন করে আক্রমণের ছক করছে। শনিবার এক বিবৃতিতে আমেরিকা জানায়, “যদি হামাস আবার হামলা চালায়, তবে তা শান্তিচুক্তি ভঙ্গের সমান। সে ক্ষেত্রে আমেরিকা ও গ্যারেন্টার দেশগুলি কড়া ব্যবস্থা নেবে।” ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গাজার নিরীহ নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Border Security Clash: বাংলাসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে অবৈধ ধর্মীয় কাঠামো ভাঙার নির্দেশ, নিরাপত্তা নিয়ে করা বার্তা কেন্দ্রের!
অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, “আমরা গাজ়ায় শান্তি চাই। প্যালেস্টাইনিদের উপর নতুন করে কোনো হামলার পরিকল্পনা নেই।” কিন্তু ততক্ষণে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একাধিক ভবন। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক, মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে শরণার্থী শিবিরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির ভাঙন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শান্তির পথ এখন আরও কঠিন হয়ে পড়ল।





