দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীপুজোর উৎসবের মুখে রবিবার একাধিক স্থানে বিশেষ দৃশ্য দেখা গেল। মন্দির ও পুজো আয়োজনে ব্যস্ত পথেই বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা, প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁর কনভয় ঘিরে দাঁড়ান এবং প্রতিবাদের স্লোগান দেন। এতে উৎসবের আনন্দের মাঝে খানিকটা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমে রায়দিঘিতে বিক্ষোভের মুখে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে ঘিরে কিছু মানুষ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন। শুভেন্দু সরাসরি জানান, “আমি বিজেপি করতে আসিনি, হিন্দু ধর্ম পালন করতে এসেছি” স্থানীয়রা মূলত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পের অর্থ বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক মহিলা জানান, “আমরা সাধারণ মানুষ হিসাবে এসেছি। ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা কেন বন্ধ করা হয়েছে, আবাস যোজনার টাকা কেন বন্ধ হয়েছে—তার জবাব চাই।”
পাথরপ্রতিমা এবং মথুরাপুরের পথে কনভয়ের সঙ্গে পথচারীরা সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশকারীরা এখানে প্রবেশ করে গণতন্ত্র বিগড়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এই জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ নিজের ধর্ম ও সাংস্কৃতিক উৎসব সঠিকভাবে পালন করতে পারছেন না। তাদের অর্থ খর্ব হচ্ছে, জমি বিক্রি করে শহরে চলে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলাতেও ধরা পড়ছে।”
শুভেন্দু আরও বলেন, “আজ ভারতের প্রতিটি হিন্দু নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারছে না। আমি বিরোধী দলনেতা হিসাবে নিরাপত্তা নিয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোথায়?” এর আগে জুন মাসেও মহেশতলায় কালীপুজোর অনুষ্ঠানে যান তিনি। সেখানেও তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন এবং কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও জনগণের ক্ষোভ সামলাতে হয়।
আরও পড়ুনঃ চুমুর উষ্ণতায় ‘রাজনৈতিক ওয়াপসি’র উদযাপন, শোভন-বৈশাখীর নতুন অধ্যায়— ভালোবাসাই শেষ কথা
শেষে তিনি আবারও স্পষ্ট করেন, “আমি আজ কেবল ধর্ম পালন করতে এসেছি। বিজেপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। আমরা সবাই হিন্দু হিসেবে আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করার আহ্বান জানাই।” এইভাবে রায়দিঘি এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে শুভেন্দুর উপস্থিতি এবং প্রতিক্রিয়ার ঘটনা সরাসরি কালীপুজোর আনন্দের মাঝে রাজনৈতিক উত্তেজনার সংমিশ্রণ তৈরি করেছে।





