কলকাতার স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। তালিকায় নাম থাকা প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষক আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তারা চাকরি ফেরত পেতে এবং পরীক্ষায় বসার অনুমতি চাইছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে তাদের আশা হতাশায় মিলেছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “সব কিছুর সীমা আছে।”
প্রথমেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়।” এদিকে, শিক্ষকদের আইনজীবীরা আদালতে আর্জি জানালেন, তারা নিজেকে ‘যোগ্য’ হিসেবে পরীক্ষা দিতে চান। কিন্তু বিচারপতি তাদের বিরক্তি প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন, “যারা স্কুলে যেতে পারছিলেন না, তারা কেন আগে আদালতের দ্বারস্থ হননি? এখন শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা দিতে চাইছেন?”
আদালতে আরও উঠে আসে, যেসব শিক্ষক নিয়োগ প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরে চাকরি পেয়েছেন, প্যানেলের বাইরে থেকে নিয়োগ পেয়েছেন বা খালি খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তাদের ‘দাগী’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু বিচারপতি জানিয়েছেন, এটি অন্য সকল শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। “আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিটি অনিয়ম বা বেআইনি পদক্ষেপ নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়,” উল্লেখ করেন তিনি।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, “যাদের OMR পরীক্ষা বা র্যাঙ্ক নিয়ে সমস্যা হয়েছে, তারা ‘দাগী’ হিসেবে চিহ্নিত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়েছে।” অন্যদিকে, ‘দাগী’ শিক্ষকদের আইনজীবীরা দাবি করেন, “আমরা পরীক্ষা দিতে চাই, অ্যাডমিট কার্ড পেয়েছি, কিন্তু হঠাৎ তালিকা প্রকাশ করে বলা হলো আমি ‘অযোগ্য’। আমরা কীভাবে জানব আরও কোনো তালিকা আছে কি না?”
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : “কড়া হাতে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে হবে”- শাংহাই সম্মেলনে মোদি পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন!
শেষ পর্যন্ত আদালত চাকরি ফেরত ও পরীক্ষায় বসার আবেদন দুটোই খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “সব কিছুর সীমা থাকা দরকার। এই মুহূর্তে ১৮০৬ জনের নথি খতিয়ে দেখা সম্ভব নয়।” আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষকরা কোনো রকম সুবিধা পাবেন না এবং পরীক্ষায় বসার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।





