West Bengal: সেনা নিয়ে ব্রাত্য বসুর মন্তব্যে তীব্র আপত্তি, অধিবেশনে শুভেন্দুর স্লোগান, বিধানসভায় হট্টগোল! সাসপেন্ড বিরোধী দলনেতা!

সম্প্রতি ধর্মতলার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের প্রতিবাদ মঞ্চ খোলার কাজ শুরু করলে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ওই মঞ্চ খোলার প্রসঙ্গই নিয়ে সোমবার বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বক্তব্য দেন। তবে ব্রাত্যের মন্তব্যে আপত্তি তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যান্য বিজেপি বিধায়ক। স্লোগান, চিৎকার আর অভিযোগের মধ্য দিয়ে অধিবেশন কয়েক মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বলেন, ‘‘গতকাল ভারতীয় সেনা আমাদের আন্দোলন মঞ্চ ভেঙে দিয়েছে। তখন মনে পড়ছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় পাক সেনাবাহিনীর গুলি করে হত্যার ঘটনা।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মন্তব্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু-সহ অন্যান্য বিজেপি বিধায়ক তীব্র আপত্তি জানাতে শুরু করেন। ব্রাত্যের বক্তব্যে ভারতীয় সেনাকে অপমান করার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু এবং তাঁর দলীয় বিধায়কেরা স্লোগান দিতে থাকেন।

হট্টগোল ক্রমশ বাড়তে থাকে। ব্রাত্য বলেন, অতীতে একবার গোলওয়ালকার এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মধ্যে রাজ্যের ভাষা ও ভাগ নিয়ে ভিন্ন মত ছিল। শুভেন্দু দাবি করেন, ব্রাত্য এই প্রসঙ্গে গোলওয়ালকারকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জের জবাবে ব্রাত্য বলেন, তিনি প্রমাণিত নথি বিধানসভার সচিবালয়ে জমা দেবেন। তবে এই বিরোধ এবং স্লোগান থামানোর চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।

শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতা শুভেন্দুকে এই অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করেন। এদিকে, সাসপেন্ডের প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে আসে শুভেন্দু ও অন্যান্য বিজেপি বিধায়ক। তাঁরা বাইরে এসে বিক্ষোভ চালান। শুভেন্দু বলেন, ‘‘মন্ত্রীর অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশে স্পিকার আমাকে সাসপেন্ড করেছেন। সেনাবাহিনীর সম্মান রক্ষার জন্য সাসপেন্ড হয়েছি, তাই গর্বিত।’’ উল্লেখযোগ্য, ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচবার সাসপেন্ড হলেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুনঃ SSC : “আমি পরীক্ষায় বসার জন্য অ্যাডমিট পেয়েছি, হঠাৎ করে তালিকায় নাম জুড়ে দেওয়া হল অযোগ্য হিসেবে” — আদালতে বিস্ফোরক দাবি চাকরি হারানো শিক্ষকদের!

ব্রাত্য এই ঘটনার পরও অনড়। তিনি বলেন, ‘‘ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। ঢাকায় যা ঘটেছে সেটিই ইতিহাস। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অপমান করার উদ্দেশ্য নেই, তবে ঘটনা সত্য বলার স্বাধীনতা রয়েছে।’’ এই মন্তব্যেই বিতর্কের আঁচ এখনও কমেনি, এবং বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles