নিষিদ্ধ স্যালাইন নিয়ে বড় বিতর্ক! এসএসকেএমে শুরু হল বাতিলের কাজ

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যু এবং স্যালাইনের গুণমান নিয়ে বিতর্কের পর রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর কড়া পদক্ষেপ নিল। স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ দফতর, বিশেষ করে স্যালাইনের মানের দিকে নজর রেখে একটি নির্দিষ্ট সংস্থার স্যালাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্যালাইন নিয়ে এই ঘটনায় হাসপাতালগুলিতে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এসএসকেএম হাসপাতালেও বাতিলের কাজ শুরু হয়েছে।

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যুর পর স্যালাইনের গুণমান নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। প্রসূতিকে দেওয়া ‘রিঙ্গার ল্যাকটেট’ স্যালাইনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপরই স্বাস্থ্য দফতর কড়া পদক্ষেপ নিয়ে নির্দিষ্ট সংস্থার স্যালাইন ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেয়। যদিও, স্যালাইনের বিষক্রিয়া সন্দেহের তির অবশ্যই সঠিকভাবে খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুসারে, এসএসকেএম হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ‘রিঙ্গার ল্যাকটেট’ স্যালাইন বাতিল করার কাজ শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্মীরা জানাচ্ছেন, এটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চলছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রকম সমস্যা সৃষ্টি না হয়। মহিলা ও শিশু বিভাগ সহ অন্যান্য ওয়ার্ড থেকেও স্যালাইন বের করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে স্যালাইনের গুণমান নিয়ে উঠা বিতর্ক আরও গম্ভীর হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যে ১৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে তদন্ত করেছে এবং স্যালাইনের নমুনা সংগ্রহ করেছে। তা ছাড়াও, বিভিন্ন হাসপাতালে স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যদিও, প্রশ্ন উঠে এসেছে যে কীভাবে এই নিষিদ্ধ স্যালাইন সেসকল প্রসূতিদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এর পেছনে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ছিল কিনা।

আরও পড়ুনঃ ১০ টাকার জন্য প্রাক্তন আইএএস আধিকারিককে বাস থেকে নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও!

এদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অসুস্থ তিন প্রসূতিকে রবিবার রাতে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনকে সিসিইউতে এবং একজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এই প্রসূতিদের চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে, মূল উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়টি হলো—স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তের পরে আরও কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে, যা বিতর্কের গভীরতা আরও বাড়াতে পারে।

RELATED Articles