রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো থেকে ন্যাশানাল লাইব্রেরী, কলকাতার নানান ভুতুড়ে জায়গার কাহিনী হাড়হিম করবে আপনারও

Haunted places of Kolkata: শহর কলকাতায় নাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে অশরীরী আত্মা। আত্মা আছে কিনা তা তর্ক সাপেক্ষ। কলকাতায় থাকা মানুষদের মতে রাত নামলেই এই সব জায়গায় পা রাখলেই হাড়হিম হয়ে যাবে আপনার। শহর কলকাতার গা ছমছমে (Haunted place) কিছু জায়গা (Haunted places of Kolkata)

১. রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো- রবীন্দ্র সরোবর মেট্রোতে রাত নামলেই গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে মেট্রো রেলের কর্মী অনেকেই এই স্টেশনে ছায়া মূর্তিকে (Haunted place) ভেসে বেড়াতে দেখেছেন। স্টেশনের টানেল থেকে নাকি ভেসে আসে শিশুর কান্নার শব্দ। ভিড়ের মধ্যেও নাকি এই স্টেশনে ভূতের উপস্থিতি টের পেয়েছেন বহু মানুষ। তাই রাত নামলে অনেকেই এই স্টেশন এড়িয়ে যান। ‌ শোনা যায় রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে বহু মানুষ মেট্রো রেলের সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন। অবশ্যই প্রাণ বাঁচেনি। তারাই অতৃপ্ত হয়ে নাকি ঘুরে বেড়ান (Haunted places of Kolkata)

২. পুতুল বাড়ি – উত্তর কলকাতার পুতুল বাড়ি কলকাতা সবচেয়ে রহস্যজনক একটি বাড়ি (Haunted places of Kolkata)। একসময় ওই বাড়িতে এক ব্যবসায়ী থাকতেন। সেই ব্যবসায়ী ও তার দলবল এই বাড়িতে প্রচুর মেয়েদের তুলে নিয়ে এসে সর্বনাশ করত। কেউ প্রতিবাদ করতে এলে সেই মেয়েকে মেরে পুঁতে দেওয়া হত‌‌ বাড়ির নিচে। সেই সব মেয়েরাই নাকি ঘুরে বেড়ায় বাড়ির আনাচে কানাচে। তাদের কান্নার আওয়াজ শোনা যায় গভীর রাতে। তবে স্থানীয়দের মতে ওই বাড়িতে কোনো ভূত নেই। আবার অনেকেই মনে করেন ভূত (Haunted place) আছে শুনে ওই বাড়িতে প্রচুর লোক যেতে শুরু করায় পাড়ার লোকের অসুবিধে হতে থাকে, তাই স্থানীয়রা রটিয়ে দেন ওই বাড়িতে কোনো ভূত নেই।

৩. মল্লিক ঘাট- হাওড়া ব্রিজের নিচে মল্লিকঘাট ফুল বাজারে যারা যাতায়াত করেন তারা বলেন ওখানে একটা ঘাটে রাত নামলেই নাকি এক মহিলার কান্নার শব্দ (Haunted place) ভেসে আসে। অনেকেই নাকি ভোররাতে ঘাটের জলে দুটো হাত দেখতে পেয়েছেন। যেই হাত নাকি মানুষের মতো কাছে ডাকে। স্থানীয় মানুষদের কথায় যে ওই ডাক শুনে যে এগিয়ে যায়, সেই গঙ্গায় তলিয়ে যায় (Haunted places of Kolkata)

৪. ন্যাশনাল লাইব্রেরী- ভুতুড়ে জায়গা (Haunted place) হিসেবে কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরীর বেশ দুর্নাম রয়েছে (Haunted places of Kolkata)। এখানে পড়াশোনা করতে আসা অনেক মানুষই নিজের ঘাড়ের কাছে কোন অশরীরীর নিঃশ্বাস অনুভব করেছেন। আবার অনেকে নিশ্চুপ দুপুরে লাইব্রেরীর তালা বন্ধ বল ডান্সের ফ্লোরে শুনতে পেয়েছেন হাঁটার শব্দ। অনেকেই বলেন লর্ড মেটকাফের স্ত্রীয়ের আত্মা এখনও অতৃপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায় ন্যাশনাল লাইব্রেরীর অন্দরমহলে।

৫. আকাশবাণী অফিস- আকাশবাণীর পুরনো অফিস গ্রাস্টিং প্লেসে নাকি আজও অশরীরী আত্মার (Haunted place) দেখা মেলে। গভীর রাতে অনেকেই এখানে এক সাহেবকে কাজ করতে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ রেকর্ডিং রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে গান শুনতে দেখেছেন এক অশরীরীকে। রাত নামলে নাকি এখানকার নানান স্টুডিও থেকে ভেসে আসে বাদ্যযন্ত্রের সুর। আর সেই বাদ্যযন্ত্রগুলো বাজায় অশরীরীরা (Haunted places of Kolkata)

৬. সাউথ পার্ক‌স্ট্রিট সেমেট্রি- সাউথ পার্ক স্ট্রিট সেমেট্রির অন্ধকার কবরস্থানে নাকি রাত নামলে জেগে ওঠে বহু পুরনো ব্রিটিশ সৈনিকের আত্মা (Haunted places of Kolkata)। আবার অনেকেই বৃষ্টির দুপুরে ইংরেজ আত্মাদের নিশ্বাস টের পেয়েছেন ঘাড়ের কাছে।

৭. উইপ্রো- শুধু কি প্রাচীন জায়গাতে ভূত (Haunted place) রয়েছে। সল্টলেক এর ঝাঁ চকচকে উইপ্রো অফিসের ভুতুড়ে কাহিনী হাড়হিম করে দেবে সকলের। এই অফিসের থার্ড ফ্লোরে নাকি দুপুর বেলাতেও কর্মীরা একা একা বাথরুমে যেতে ভয় পান। কাঁচের মধ্যে অশরীরীর ছায়া, হাঁটার সময় পিছনে কারোর অস্তিত্ব টের পাওয়া।‌ প্রায়শই সেখানে এমন গা ছমছমে ঘটনা ঘটে। অনেকে বলে কবরস্থানের জমিতে অফিসটি তৈরি হওয়াতে এই বিপত্তির সূত্রপাত (Haunted places of Kolkata)

এছাড়াও রাইটার্স বিল্ডিং-এ টাইপ রাইটারের ভূত, নিমতলা শ্মশানে মৃত অঘোরী সন্ন্যাসীদের ভূত, হেস্টিংস হাউসে ব্রিটিশ কর্মীর ভূত নাকি কলকাতার বহু মানুষের রাতের ঘুম কেড়েছে (Haunted places of Kolkata)। এইসব জায়গাগুলিতে ভূত আছে কিনা তা পরীক্ষা করেননি কেউ। লোকমুখে প্রচলিত বিভিন্ন ভুতুড়ে স্থান এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

RELATED Articles