ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্যজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও প্রশ্ন জমতে শুরু করেছে, তা শুধু রাজনৈতিক মহলেই সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি—নাম বাদ পড়বে কি না, বারবার শুনানির নোটিস কেন আসছে, কোন নথি গ্রহণযোগ্য—এই সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। ঠিক এই আবহেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ওঠে রাজ্যের SIR সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার শুনানিতে উঠে আসে ভোটারদের হয়রানি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
এই মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করতেই হবে নির্বাচন কমিশনকে। শুধু ওয়েবসাইটে নয়, ব্লক, পঞ্চায়েত এবং জেলা সদর—সব জায়গাতেই এই তালিকা টাঙিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শুনানির সুযোগ দিতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও প্রক্রিয়া যদি ইনক্লুসিভ হয়, তা হলে সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শুনানিতে উঠে আসে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, SIR-এর ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরেই এই নথি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। পাশাপাশি আদালত জানায়, শুনানির সময় একজন প্রতিনিধিকে সঙ্গে রাখার অধিকার ভোটারের রয়েছে, তিনি জনপ্রতিনিধি বা BLA হলেও আপত্তি নেই। প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট মন্তব্য, একজন বৈধ ভোটার চাইলে তাঁর প্রতিনিধিত্বে একজন BLA রাখতে পারেন—এতে কোনও অসুবিধার প্রশ্ন নেই।
এই মামলায় আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে জানান, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার শুনানি হলেও, হাতে সময় খুবই কম। তাঁর দাবি, বানানের সামান্য ভুল বা বয়সের অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখিয়েই বহু বৈধ ভোটারের নাম চিহ্নিত করা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হলে তা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক নজর, ভোটের আগে ইউনূস সরকারের প্রকাশিত রিপোর্টে কী বলছে সংখ্যা?
এদিন আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, বাবার নাম বা বানানে ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে, কিন্তু সেই কারণ দেখিয়ে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। ভোটারদের অহেতুক হয়রানি করা যুক্তিযুক্ত নয় বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানির জন্য পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, নথি জমার রসিদ দেওয়া এবং শুনানির সময়-স্থান আগেভাগে জানানো—এই সব বিষয় নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ছয় সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।





