বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন নানাভাবে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটেই চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকার। সেই উদ্বেগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পরিসংখ্যান প্রকাশ করল ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার।
গত ৯ জানুয়ারি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রকাশ্যে জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার একটি অস্বস্তিকর ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই এবং কড়া নজরদারি প্রয়োজন। এই মন্তব্যের প্রায় ১০ দিনের মাথায় সংখ্যালঘু সংক্রান্ত অপরাধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, পুলিশের নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
ঢাকার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যুক্ত মোট ৬৪৫টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে সরকারের দাবি, এর মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে। বাকি ৫৭৪টি ঘটনার সঙ্গে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই। এই ৭১টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার ক্ষেত্রে ৫০টিতে মামলা দায়ের হয়েছে এবং সমসংখ্যক গ্রেফতারিও করা হয়েছে। পাশাপাশি ২১টি ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যেসব ঘটনায় সংখ্যালঘুরা জড়িত থাকলেও ধর্মীয় কারণ পাওয়া যায়নি, সেগুলির পেছনে ছিল জমি বিবাদ, পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক গোলমাল, চুরি, ধর্ষণ বা অন্যান্য সাধারণ অপরাধ। এই ধরনের ঘটনায় ৩৯০টি মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। মোট ৪৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও ৩০টি ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউনূসের দফতর।
আরও পড়ুনঃ Supreme Court On Rajganj BDO: হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, আত্মসমর্পণ না করলে বিপাকে রাজগঞ্জের বিডিও!
ইউনূসের প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি অপরাধই উদ্বেগজনক হলেও পরিসংখ্যান বলছে, অধিকাংশ ঘটনাই অসাম্প্রদায়িক। তবে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ৭.৯৫ শতাংশ, বৌদ্ধ ০.৬১ শতাংশ এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ০.১২ শতাংশ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের আগে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ রাজনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





