পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ভোটের সময় তালিকায় কেউ অনুপ্রবেশ করলে তার সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হবে কি না। কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, কৃত্রিম মেধা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তির সাহায্যে ভোটার তালিকার প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। এতে শুধু মৃত বা নিখোঁজ ভোটার নয়, অনুপ্রবেশকারী ভোটারও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটারের নাম, ছবি, আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং বাবা-মায়ের নাম মিলিয়ে বিশ্লেষণ করা হবে। এভাবে যদি কোনও তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া যায়—যেমন বাবার নামের পরিবর্তন বা পুরনো তালিকার সঙ্গে মিল না থাকা—তাহলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে চিহ্নিত করা হবে। সূত্রের দাবি, এভাবে ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৮ হাজার সন্দেহজনক ভোটার চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে খসড়া তালিকা থেকে কতজন ভোটার বাদ পড়বে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রায় ৪৩ লক্ষেরও বেশি নাম খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে, যেগুলোর মধ্যে মৃত, নিখোঁজ বা অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারও রয়েছে।
এদিকে এই সংশোধন প্রক্রিয়ার (SIR) সঙ্গে যুক্ত বিএলও-দের (Booth Level Officer) উপর কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যের চার জেলায় কমপক্ষে চার জন বিএলও-র মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ব্রেন স্ট্রোক, হৃদরোগ এবং আত্মহত্যা রয়েছে। কমিশন দাবি করছে, বিএলও-দের উপর চাপ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা অতিরিক্ত নয়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে মোট ৮০,৬৮১ জন বিএলও রয়েছেন এবং তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করছেন। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়েও ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় চলা এসআইআর-এর জন্য সময়সীমা সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম আপলোডের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যা ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কমিশন মনে করছে, আরও বৃদ্ধি প্রয়োজন হবে না। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসআইআর-কে কেন্দ্র করে আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ নতুন ফর্ম পূরণে কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এ আতঙ্কের কারণে রাজ্যে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কমিশনের বক্তব্য, অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এই কাজ তুলনামূলকভাবে ভালভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে জনসাধারণের সাড়া বেশি দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ED : চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়িতে ইডির হানা! দেশ–বিদেশে বেনামী সম্পত্তির পাহাড়, ১৫০০ কোটির লেনদেনের হদিস—নরেশ কেজরীওয়াল কি বড় কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের মুখ?
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর। এরপর ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত যেকোনো অভিযোগ বা আপত্তি কমিশনে জানানো যাবে। কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। বিধানসভা স্তরে ইআরও দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন এবং পুরো শুনানি প্রক্রিয়া সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড করা হবে। যাতে কেউ কোনো ভুল তথ্য বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ঘটাতে না পারে, তার পর্যবেক্ষণও চলবে। এ ধরনের নজরদারি নিশ্চিত করবে, ভোটার তালিকা হবে আরও স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং ভুয়ো ভোটারদের প্রবেশ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।





