Supreme Court: ‘দুর্ভাগ্যজনক ব্লেম গেম’ মন্তব্য প্রধান বিচারপতির, অফিসার নিয়োগে জট কাটাতে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আসতে পারে জুডিশিয়াল অফিসার!

রাজ্য–কেন্দ্র সংঘাতের আবহে আবারও শীর্ষ আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ। এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা এদিন আদালত কক্ষে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পারস্পরিক দোষারোপ, দেরি, এবং আধিকারিক নিয়োগ নিয়ে জট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ চাপা থাকেনি। প্রধান বিচারপতির কথাতেই ধরা পড়ে সেই বিরক্তি—দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

শুনানির একেবারে শুরুতেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ২৮ তারিখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন আর পিছোবে না। রাজ্যের আপত্তি খারিজ করে আদালত জানায়, বর্তমানে যা তথ্য ও নথি রয়েছে, তা দিয়েই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে পরে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখার সুযোগ নেই—এই বার্তাই দেয় শীর্ষ আদালত। এতে স্পষ্ট, আদালত সময়সীমা রক্ষায় অনড় অবস্থান নিয়েছে।

তবে মূল উত্তাপ বাড়ে আধিকারিক নিয়োগ প্রসঙ্গে। আগের শুনানিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফিসারদের তথ্য কমিশনে দেওয়ার নির্দেশ ছিল। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ৮৫০৫ জন অফিসারের তথ্য ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গ্রুপ বি অফিসারদের বর্তমান অবস্থান কী, উপযুক্ত যোগ্যতা সম্পন্ন অফিসার পাওয়া গেছে কি না—এই প্রশ্নে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কমিশনের আইনজীবী জানান, আধিকারিকের অভাবে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, গ্রুপ বি অফিসার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসডিম স্তরের অফিসার কোথায়—এই প্রশ্নে আবারও চাপ বাড়ে। আদালত স্পষ্ট করে দেয়, ইআরও (ERO) পদে যাঁরা থাকবেন তাঁদের বিচারকের মতো নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে; এটি কেরানির কাজ নয়।

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন, কমিশনের অনেক অফিসারের বাংলায় জ্ঞান নেই, যা প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করছে। অন্যদিকে, রাজ্যের দাবি—পশ্চিমবঙ্গে এসডিও রাঙ্কের অফিসার সংখ্যা মাত্র ৬৯। এই সীমাবদ্ধতার কথা সামনে আসতেই আদালত প্রশ্ন তোলে, প্রয়োজন হলে কমিশন কি নিজেদের অফিসার আনতে পারে না? কমিশনের আইনজীবী জানান, অন্য কোনও রাজ্যে এমন সমস্যা হয়নি, একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এ ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। নাম বাদ পড়ার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয় আদালতে।

আরও পড়ুনঃ Usashi Chakraborty : ‘শূন্য পাওয়া দল থেকে এত অফার কেন?’ প্রতীক ইস্যুতে বিস্ফো*রক পোস্ট উষসী চক্রবর্তীর, যুব নেতৃত্ব নিয়ে কটাক্ষে চাপে রাজনৈতিক মহল!

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এটি “দুর্ভাগ্যজনক ব্লেম গেম”। নির্বাচিত সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে একজন জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। সেই আধিকারিক সরকার ও কমিশন—উভয় পক্ষকে সমন্বয়ে সাহায্য করবেন। প্রয়োজনে অন্য রাজ্য থেকেও অফিসার আনা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন আদালত। এখন দেখার, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় জট কতটা কাটে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles