নানা প্রশ্ন, দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর একের পর এক শুনানির পর আর জি কর হাসপাতালের সেই বহুল আলোচিত মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপ্রক্রিয়া কোন পথে এগোবে, সেই নিয়েই এতদিন ছিল কৌতূহল। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, তদন্তের অগ্রগতি ও ন্যায়বিচার—সব মিলিয়ে এই মামলা শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমাজের বড় একটি অংশের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। ঠিক এই আবহেই বুধবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল।
বুধবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে আর জি কর সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি হয়। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলা আর শীর্ষ আদালতে চলবে না। এবার থেকে মামলার শুনানি হবে কলকাতা হাই কোর্টে। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে থাকা মামলার সমস্ত নথি দ্রুত হাই কোর্টে পাঠাতে হবে। যদিও কোন বেঞ্চে বা কবে এই মামলার শুনানি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
এই নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আর জি কর মামলার বর্তমান অবস্থা বা স্টেটাস রিপোর্ট অভয়ার বাবা-মাকেও দিতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পরিবারের এই তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। ফলে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি কর হাসপাতাল থেকে এক জুনিয়র চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে একদিকে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট নিজে থেকেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করে। একাধিক শুনানিতে সিবিআইকে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি তৈরির কথাও বলা হয়।
আরও পড়ুনঃ Lionel Messi : মেসির ইনস্টাগ্রাম ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক! ভারত সফরের ভিডিওতে হায়দরাবাদ-মুম্বই থাকলেও বাদ পড়ল কলকাতা স্টেডিয়াম!
এই ঘটনার বিচারিক দিকও ইতিমধ্যেই এক ধাপ এগিয়েছে। শিয়ালদহ আদালত মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের সাজা দিয়েছে। তবে অভয়ার বাবা এর আগেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন, সেই মামলার শুনানি এখনও চলছে। এবার সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হাই কোর্টে পৌঁছনোর পর পুরো বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!