TMC : “কারও আচরণে যেন দলের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়” — মহুয়া-রচনার প্রসঙ্গে কড়া সতর্কবার্তা অভিষেকের!

শীতকালীন অধিবেশন মানেই সংসদের ভিতরে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক, বাক্যবাণের লড়াই। কিন্তু এবছর সেই উত্তাপ শুধু সংসদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংসদের বাইরেও তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কখনও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, কখনও আচরণগত বিষয়, আবার কখনও সংসদের ভিতরের কিছু দৃশ্য—সব মিলিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে দল। এই পরিস্থিতিতে দলের ভাবমূর্তি নিয়ে চিন্তিত হয়ে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলের সাংসদদের সঙ্গে এক বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—ব্যক্তিগত আচরণ বা সিদ্ধান্ত যেন কোনওভাবেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট না করে। অন্য দলের নেতা বা সাংসদদের আমন্ত্রণে দলের অনুমতি ছাড়া উপস্থিত হওয়া, কিংবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে ব্যক্তিগত ভাবে দরবার করা—এই ধরনের বিষয় নিয়ে তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন। নাম না করেই তাঁর বার্তা ছিল পরিষ্কার, সাংসদদের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে দল।

এই সতর্কবার্তার নেপথ্যে একাধিক সাম্প্রতিক ঘটনা রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ ও শিল্পপতি নবীন জিন্দলের কন্যার বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ করতে দেখা যায়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত এবং এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও। রাজনৈতিক মহলে এই ছবি ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পাশাপাশি হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ নিয়েও দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়।

এখানেই শেষ নয়, দলের অনুমতি ছাড়াই শরদ পওয়ারের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় সিনিয়র সাংসদ সৌগত রায়কেও ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা। পাশাপাশি সংসদের ভিতরে দুই তৃণমূল সাংসদের ই-সিগারেট ব্যবহারের ঘটনা নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। একের পর এক এমন ঘটনা দলের ভাবমূর্তিকে যে অস্বস্তিতে ফেলছে, তা বুঝতে পেরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া অবস্থান নেন বলে সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুনঃ RG Kar case : আরজি কর কাণ্ডে নয়া মোড়! স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ছাড়ল সুপ্রিম কোর্ট—হাই কোর্টে শুনানি, অভয়ার পরিবারকে জানাতে হবে সব তথ্য!

তবে শুধু সতর্ক করাই নয়, সাংসদদের কাজের প্রশংসাও করেছেন অভিষেক। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে দলের সক্রিয় ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিষয়গুলি তুলে ধরার জন্য সাংসদদের সাধুবাদ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও জোর দিয়ে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের প্রশ্ন তোলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বার্তা একটাই—ব্যক্তিগত আচরণে সংযম, রাজনৈতিক লড়াইয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান। দলের অন্দরমহলে এই নির্দেশিকা কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles