ফের শুরু মমতা-শুভেন্দুর বিবাদ। তৃণমূল সুপ্রিমোকে ফের একবার আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজই নন্দীগ্রামের সভায় উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে নন্দীগ্রাম থেকে তিনি ভোটে দাঁড়াবেন। তার পাল্টা জবাব দিয়ে এদিন রাসবিহারী সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে নন্দীগ্রামে মমতাকে আধ-লাখ ভোটে হারাবেন তিনি।
নন্দীগ্রামে আজ রীতিমতো নিজের প্রধান অস্ত্র নিক্ষেপ করেন তৃণমূল দলনেত্রী। বেশ কিছুদিন পর নন্দীগ্রামে পা রাখেন তিনি। সেখানে গিয়ে বেশ কিছুটা আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েন। জানান, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর আত্মার টান। তাই নিজের উত্থানস্থল থেকেই নির্বাচনে লড়তে চান তিনি।
কার্যত, নন্দীগ্রামই বাংলার রাজনীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অণুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলা যায়। এখান থেকেই শুরু হয়েছিল পরিবর্তনের লড়াই। এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত নির্বাচন লড়ে জিতেছিলেন।
এদিন সভায় সেই কথাই বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এবারে নন্দীগ্রামে এমন কাউকে প্রার্থী করব ভাবছি, যে আপনাদের কাছে থেকে আপনাদের জন্য কাজ করবে। ভাবছিলাম, আমি নিজেই যদি প্রার্থী হই, তাহলে কেমন হয়?” এরপরই স্পষ্ট করে মমতা জানান, “আমি আমার দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে বলব, নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হিসেবে যেন আমার নামটা তালিকায় রাখে। আমি নন্দীগ্রামের মানুষের মধ্যে থেকে আপনাদের জন্য লড়তে চাই”।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়তে চান খবর পেয়ে তাঁকে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রাসবিহারীর সভা থেকে তিনি বলেন যে ভোট এলেই খালি মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে যান। ভোটের পর আর মনে পড়ে না। এ বলেন যে ঠিক পাঁচ বছর পর মমতার আবার নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়েছে। তিনি নন্দীগ্রামের জন্য কোনও কাজ করেননি বলে দাবী শুভেন্দুর।
এদিন মমতাকে আক্রমণ করে শুভেন্দু আরও বলেন সিঙ্গুর থেকে শিল্প তাড়িয়ে মমতা ভুল করেছেন। শুভেন্দুর দাবী, তিনি কাল খেজুরির হেড়িয়ায় পাল্টা সভা করবেন। এরপর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর বার্তা, “আজ ৭ জেলা থেকে ৩০ হাজার লোক এনেছেন। ওই সভায় দাঁড়িয়ে আজ বড় বড় সভা করছেন। নন্দীগ্রামের মানুষ আপনাকে ক্ষমা করবে না। আপনি নন্দীগ্রামে দাঁড়ান। কথা দিচ্ছি, আধ-লাখ ভোটে মমতাকে হারাতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব আমি”।





