সোমবার সকালে হাওড়া শহরে দেখা গেল এক অদ্ভুত চিত্র—একদিকে রোদ-ঝলমলে আকাশ, অন্যদিকে রাজপথে ঢেউ খেলছে শিক্ষক আন্দোলনের ঢল। চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের নবান্ন অভিযান ঘিরে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়ছে। সকাল হতেই হাওড়া ময়দান থেকে শুরু হয়েছে জমায়েত। নবান্ন ঘিরে নিরাপত্তার বলয় এতটাই কঠোর যে, সাধারণ পথচারী থেকে যাত্রীরা সকলেই পড়েছেন চরম সমস্যায়।
এদিন সকাল থেকেই হাওড়া ময়দান থেকে নবান্ন পর্যন্ত একাধিক এলাকায় বসানো হয়েছে আকাশছোঁয়া গার্ডরেল ও লোহার ব্যারিকেড। কোথাও আবার রাস্তার ওপর ঢালাই করে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড, যাতে আন্দোলনকারীরা তা সরাতে না পারেন। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য গোটা নবান্ন চত্বরে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, চালানো হচ্ছে ড্রোন নজরদারি। মোতায়েন হয়েছে র্যাফ (RAF), কমব্যাট ফোর্স, এমনকি জলকামানও রাখা হয়েছে প্রস্তুত।
‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে ফেরাতে হবে চাকরি। এই দুটি দাবিকে সামনে রেখেই ফের একবার রাজপথে নামা। তাঁদের অভিযোগ, বহুবার আবেদন ও প্রতিবাদ করেও কোনও লাভ হয়নি। এবার পিছু হটবে না তাঁরা, আদালতও তাঁদের পাশে—এমনটাই দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
ফোরশোর রোডে সকাল থেকেই সৃষ্টি হয়েছে প্রবল যানজট। ঢালাই করা ব্যারিকেড সরানো অসম্ভব হওয়ায় যান চলাচলের রাস্তা অনেকটাই সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। যার জেরে অফিসগামী সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ট্র্যাফিকের জটে।
আরও পড়ুনঃ CPIM : ‘কোলে বসার’ পর্বের পর এবার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট! তন্ময় ভট্টাচার্য ঘিরে ফের তোলপাড় বাম মহলে!
এই নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার নবান্ন অভিযানে নামলেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। গত বৃহস্পতিবারও বৃষ্টির মধ্যেই আন্দোলনে নেমেছিলেন তাঁরা, যদিও সেইদিন আবহাওয়ার কারণে আন্দোলনের ঝাঁজ কিছুটা হালকা হয়ে গিয়েছিল। তবে এবার আন্দোলন অনেক বেশি সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে বলেই জানাচ্ছে সূত্র। শেষ পর্যন্ত কতদূর এগোতে পারবেন আন্দোলনকারীরা, তা সময়ই বলবে। তবে সোমবারের সকাল ঘিরে উত্তেজনা এখন চরমে।





