রাজনীতির মঞ্চে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ে না তন্ময় ভট্টাচার্যের। সদ্য সাসপেনশন কাটিয়ে দলে ফেরা প্রাক্তন বাম বিধায়কের নাম ফের উঠে এল এক বিতর্কে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে তাঁর একাধিক আপত্তিকর ছবি এবং কিছু ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট। আর তাতেই ফের নতুন করে উঠছে প্রশ্ন— সত্যিই কি বদলেছেন তন্ময়, নাকি পুরনো অভিযোগই আবার ফিরে এল নতুন মোড়কে?
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে প্রথমবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তন্ময়। এক মহিলা সাংবাদিক অভিযোগ করেন, সাক্ষাৎকারের নাম করে তাঁকে বাড়িতে ডেকে শ্লীলতাহানি করেন প্রাক্তন বিধায়ক। এমনকী ফেসবুক লাইভে এসে সেই সাংবাদিক অভিযোগ করেন— সাক্ষাৎকার চলাকালীন তাঁর ব্যক্তিগত পরিসরে বারবার হস্তক্ষেপ করেন তন্ময়, এমনকী ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর কোলে বসে পড়েন। এই ঘটনার জেরে আলিমুদ্দিন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। দু’বার সাসপেন্ড করা হয় তন্ময়কে। দলীয় তদন্তও হয় এবং সেই সময় বরানগর থানার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁকে।
এই অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে— এমনটাই জানিয়েছিল সিপিএম। তাই শৃঙ্খলার স্বার্থে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয় বলে জানায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। পরে একবার সাসপেনশন উঠে গেলেও ডিসেম্বর মাসে আবার তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় দল। কয়েক মাসের জন্য রাজনীতি থেকে কার্যত একঘরে করে দেওয়া হয় তন্ময়কে। এরপর গত মাসেই মেয়াদ শেষ হলে ফের দলে ফিরে আসেন তিনি।
কিন্তু দল ফেরানোর কিছুদিনের মধ্যেই আবার বিতর্কে নাম জড়াল তন্ময় ভট্টাচার্যের। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে কিছু আপত্তিকর ছবি ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, যেখানে একাধিক অনৈতিক কথোপকথনের ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এই চ্যাট ও ছবির সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি। তন্ময়ের ঘনিষ্ঠ অনেকেই এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলছেন— এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপরদিকে বাম নেতৃত্ব কেউ কেউ পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। সুজন চক্রবর্তী স্পষ্টই জানিয়েছেন, তিনি এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না।
আরও পড়ুনঃ Kolkata: “আবার লিখব, আঁকব, ঢেকে ফেলব শহরকে” — চার্জশিটে নেই মাথাদের নাম, অভয়ার বিচারে নীরব প্রশাসনের বিরুদ্ধে গ্রাফিতি-প্রতিবাদ WBJDF-এর!
এই বিতর্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যম সরাসরি যোগাযোগ করে তন্ময় ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তিনি জানান, “এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না, যা বলার কোর্ট বলবে, আইন বলবে।” এখনও পর্যন্ত এই ছবি ও চ্যাটের উৎস, সত্যতা কিংবা অভিযোগকারী কেউ প্রকাশ্যে আসেননি। তবে এর জেরে ফের একবার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে— বামদল আদৌ কি তন্ময়ের ভূমিকায় সন্তুষ্ট? না কি আবার তদন্তে নামতে হবে দলীয় নেতৃত্বকে?





