কলকাতা

স্বপ্নদীপের মৃত্যুরহস্যের জট এখনও কাটেনি, এমন আবহেই এবার চুরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে, খোয়া গেল ফোন-ল্যাপটপ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এখন গোটা শহর উত্তাল। এমন আবহের মধ্যেই এবার সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলেই ঘটল চুরির ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের হোস্টেলে হয়েছে এই চুরি। খোয়া গিয়েছে ল্যাপটপ-ফোন। এর জেরে ফের একবার নিরাপত্তা নিয়ে উঠল প্রশ্ন।

কী জানা গিয়েছে?

সূত্রের খবর, গতকাল, রবিবার ভোরে প্রায় সাড়ে ৫ টা নাগাদ চুরির ঘটনা ঘটে। দুটো ল্যাপটপ ও ৪টি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে বলে দাবী। জানা গিয়েছে, কোনও নিরাপত্তারক্ষীই শারীর শিক্ষা বিভাগের ছাত্রাবাসে ছিল না। চুরির ঘটনার পর একজন নিরাপত্তারক্ষীকে মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই এই চুরির ঘটনায় যাদবপুর থানায় দায়ের করা হয়েছে অভিযোগ। পড়ুয়াদের বক্তব্য এই প্রথমে হস্টেলে এমন চুরির ঘটনা ঘটেছে।

কী জানাচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা?

কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী বলেন, “আমি শুনেছি এখানে ল্যাপটপ, মোবাইল চুরি গিয়েছে। পড়ুয়ারা বলছে আজ ভোরের দিকে এই চুরি হয়েছে। এতদিন নিরপত্তারক্ষী থাকত না এখানে। আজকে চুরির পর থেকে আমায় এখানে দিয়েছ। তবে কোন-কোন ফ্লোরে চুরি গিয়েছে বলতে পারব না”।

পড়ুয়াদের কী বক্তব্য এই চুরি নিয়ে?

হোস্টেলের এক পড়ুয়া বলেন, “আজ সকালবেলা সিনিয়র দাদা বললেন যে ফোন, ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সকলকে নিচে ডাকা হল। এরপর আরও অনেকেই জানাল তাদের ফোন ল্যাপটপ পাওয়া যাচ্ছে না। এবার এখানে গরিব পরিবার থেকে আসেন। তাঁদের কাছে ফোন-ল্যাপটপ চুরি যাওয়া মানে অনেক কিছুই হারানো। যাদের চুরি হয়েছে তারা সকলেই থানায় গিয়েছেন। তবে হস্টেলে আগে থেকে কোনও সিসিটিভি বা নিরাপত্তারক্ষী ছিল না”।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার মধ্যরাতে এই হস্টেলেরই এফ-২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমনিতেই উত্তেজনা রয়েছে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাদের জেরা করে একাধিক বিষয় সামনে আসছে। মৃত্যুর আগে স্বপ্নদীপকে যে অত্যাচার করা হয়েছে সে কথা শনিবারই আদালতে জানায় পুলিশ।

এই মৃত্যু রহস্যের মধ্যেই এমন চুরির ঘটনায় ফের একবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এত বড় ক্যাম্পাসে কেন কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন করা হয়েছে। কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার জেরে হোস্টেলে দিনের পর দিন ধরে বেড়েছে নানান অপরাধমূলক কাজকর্ম।

Back to top button
%d bloggers like this: