শেষ কবে চিঠি লিখেছেন, মনে পড়ে? বর্তমান প্রজন্ম তো এই চিঠি লেখার বিষয়টির সঙ্গে একেবারেই পরিচিত নয়। এখন এই চিঠি লেখার অভ্যাসটা একেবারেই আর নেই। তবে সেই নস্টালজিক সময় এবার ফেরাবে কলকাতার অরবিন্দ সেতু সর্বজনীনের দুর্গামণ্ডপ।
এখন আর পিঠে চিঠির ঝুলি নিয়ে ‘রানার’ ছোটে না। নেই সেই তাঁর ঘণ্টার শব্দ। এখন সেই শব্দ বদলে হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ টোন। পোস্ট অফিস, ডাকবাক্সগুলি এখন ব্রাত্য। তবে এরা ব্রাত্য হলেও অপ্রাসঙ্গিক নয়। চিঠি লেখা বা পড়া নিয়ে অনেক মানুষের মধ্যেই একটা অন্য ধরণের আবেগ কাজ করে যা এখনকার এই ‘টেক্সট মেসেজ’ ঠিক পারে না।
আর এই নস্টালজিয়াকে উস্কে দিতেই উত্তর কলকাতার অরবিন্দ সেতু সর্বজনীন নিল এক উদ্যোগ। এই পুজো মণ্ডপে ঢুকলে আপনার মনে হবে আপনি ভার্চুয়াল জগত থেকে অনেক দূরে সরে এসে চিঠির দুনিয়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। মণ্ডপ সেজে উঠেছে চিঠি, পোস্টকার্ড ও ডাকটিকিট দিয়ে। ফিরবে ছোটবেলার স্মৃতি। এই মণ্ডপের প্রতিমাকে দেখেও মনে হবে যেন তিনি কোনও ডাকটিকিটের মধ্যেই বসে রয়েছেন। এই থিমের ভাবনা রাজু সূত্রধরের ও এই প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী গোপাল পাল।
অরবিন্দ সেতু সর্বজনীনের পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা মিন্টু পাত্র বলেন, “ডিজিটাল যুগে হারিয়ে গেছে চিঠি লেখার রীতি। চিঠিতে লেখা সেই সম্বোধনের ভাষা আজকের তরুণ প্রজন্মের জানা নেই। ধীরে ধীরে কালের নিয়মে কমেছে মানুষের ডাকটিকিট জমানোর শখও। পাড়ার মোড় থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই সমস্ত ডাকবাক্সের কথাই মনে করাবে এই মণ্ডপ”।
এই পুজো মণ্ডপের থিমকে বাহবা জানানো হয়েছে ভারতীয় ডাকবিভাগের তরফেও। ঘটনাচক্রে এই সময়ই চলছে পোস্টাল সপ্তাহ উদযাপন। অরবিন্দ সেতুর এই থিমের কথা জানতে পেরে ভারতীয় ডাকবিভাগের তরফে এই মণ্ডপের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
ডাকবিভাগের তরফে জানানো হয়েছে যে অষ্টমীর দিন মণ্ডপেই আস্ত একটি পোস্ট অফিস খুলবেন তারা। সেখানে সাধারণ মানুষ এসে চিঠি পোস্ট করতে পারবেন। ডাকটিকিটও কিনতে পারবেন। শুধু তাই-ই নয়, এই পুজোর মণ্ডপের আদলে একটি বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশও করবেন ডাকবিভাগ। এমন ভাবনায় এই পুজোর উদ্যোক্তারা বেওশ আপ্লুত।






