West Bengal : “মৃ*ত্যুর দায় জ্ঞানেশেরই?” কমিশনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল, আরও বাড়লো এসআইআর বিতর্ক!

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা ঘিরে চলতি উত্তেজনা এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে এই প্রক্রিয়া নিয়ে নানা চর্চা, আশঙ্কা ও অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন উৎকণ্ঠা বাড়ছে, রাজনৈতিক মহলেও তেমনই বাড়ছে প্রশ্নের সংখ্যা। ঠিক এই আবহেই দিল্লিতে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল।

শুক্রবার তৃণমূলের দশ সদস্যের সাংসদ-দল সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়ে মুখোমুখি অভিযোগ জানান। সেখানেই সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ওঠে—তৃণমূলের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের “হাতে রক্ত লেগে আছে”! তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পরে আতঙ্কে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সেই তালিকা সরাসরি কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে যেসব বিএলও মারা গেছেন—তাঁদের নামও তুলে ধরা হয়েছে।

তাঁদের যুক্তি—যদি সত্যিই ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের কাজ হয়, তাহলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কেন এত কঠোরভাবে এসআইআর প্রয়োগ হচ্ছে? সীমান্ত-সংলগ্ন অসম, অরুণাচলপ্রদেশ, মিজোরাম বা নাগাল্যান্ডে একই নিয়ম কেন চালু হয়নি? এছাড়া বিজেপি নেতাদের বারবার দাবি—বাংলা থেকে নাকি এক কোটি নাম বাদ যাবে। কীভাবে তাঁরা আগেই এই হিসেব জানলেন? তবে কি কমিশন রাজনৈতিক প্রভাবে চলছে?—এ প্রশ্নও তোলা হয়। পাশাপাশি বিহারে এসআইআর করে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীর কোনও তালিকা মিলল কি না—তারও উত্তরের দাবি তুলেছে তৃণমূল।

মুখ্যমন্ত্রী আগেই টানা দু’বার চিঠি লিখে এসআইআর প্রক্রিয়াকে “অপরিকল্পিত” বলে স্থগিত রাখার আবেদন করেছিলেন। তৃণমূলের দাবি, এত মৃত্যু, আতঙ্ক এবং বিভ্রান্তির পরেও কমিশন তাদের পাঁচ প্রশ্নের একটিরও স্পষ্ট জবাব দেয়নি। তাঁদের কথায়, বাংলাকে নিশানা করেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। যদিও কমিশন প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর বাংলার বক্তব্য শোনা হবে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal raises liquor prices : পশ্চিমবঙ্গে মদের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি! সুরাপ্রেমীদের মাথায় হাত! ১১,০০০ কোটি টাকার বোঝা মেটাতেই কি এই ফন্দি?

সেই ৯ ডিসেম্বরেই খসড়া তালিকা প্রকাশের কথা আগেই ঠিক করে রেখেছে কমিশন। অর্থাৎ কোর্ট শুনবে পরে, আর এসআইআরের প্রথম ধাপ শেষ হবে আগে। তৃণমূলের অভিযোগ, এই সময়সূচিই পরিষ্কার করছে—সিদ্ধান্ত আগেই পাকা। এখন দেখার বিষয়, আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবি কতটা জোরদার হয় এবং কমিশন এই বিতর্কের জবাব কীভাবে দেয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles