রাজ্যের ভোটের প্রস্তুতি যতই চূড়ান্ত পর্যায়ে ঢুকছে, ততই মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে একের পর এক অমানবিক চাপের অভিযোগ উঠছে বহু জায়গায়। সেই ক্ষোভই হঠাৎ করে বিপুল জনসমাগমে পরিণত হলো কলকাতায় সিইও দফতরের সামনে, যেখানে রাস্তাজুড়ে থমথমে পরিবেশ আর চড়তে থাকা স্লোগানে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল শহরজুড়ে।
দুপুরের পর থেকেই এলাকাটি ধীরে ধীরে ভরে উঠছিল তৃণমূলপন্থী বিএলও সংগঠনের কর্মীদের ভিড়ে। দাবি ছিল খুবই স্পষ্ট—সরাসরি সিইও-র সঙ্গে দেখা করে এসআইআর নিয়ে তাঁদের অভিযোগ জানাতে হবে। কিন্তু দফতরে প্রবেশাধিকার না মেলাতেই ক্ষোভ চরমে ওঠে। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়ানো এক বিএলও বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছি। অনুরোধ করছি, কিন্তু কেউ শুনছে না। দেখা না হলে আমরা এখান থেকে উঠব না।” অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন বহু কর্মী। পুলিশ বাধা দিতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকা জুড়ে।
এই বিক্ষোভে সবচেয়ে ভারী মুহূর্ত আসে যখন মৃত বিএলওদের পরিবার উপস্থিত হন। পূর্ব বর্ধমানের মেমারির জাকির হোসেনের দাদা ক্ষোভ উগরে দেন, “ওর অসুস্থতার কথা, চাপের কথা সবাই জানতো। তবুও কেউ গুরুত্ব দেয়নি। আজ আমরা এসেছি, তবুও সিইও দেখা করবেন না কেন? সঠিক তদন্ত চাই। আর এই ক্ষতি পূরণ করতে হবে।” পরিবারের বক্তব্য, স্কুলের কাজের পাশাপাশি এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সামলাতেই মানসিক-শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন জাকির। তারই জেরে এই মৃত্যু।
গত কয়েকদিনে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—জলপাইগুড়ির মালবাজার, মেমারি, দিঘা—এসব জায়গা থেকে একের পর এক বিএলও মৃত্যুর খবর এসেছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শান্তিমুনি ওরাওয়ের মৃত্যুর পর থেকেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। স্বামী সুখু এক্কার দাবি ছিল, স্ত্রীর ওপর এসআইআর-এর চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর আবার জাকির হোসেনের মৃত্যু মনোযোগ ফের টেনে আনে বিএলও-দের অতিরিক্ত চাপের দিকে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal : দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান—নতুন নামে শুরু হল রাজভবনের নয়া অধ্যায়!
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত অপরিকল্পিত ভাবে চালানো হচ্ছে। কাজের বোঝা বাড়ছে, কিন্তু নিরাপত্তা বা সহায়তার কোনও স্পষ্ট ব্যবস্থা নেই। বিক্ষোভে উপস্থিত বহু বিএলও বলেন, এই পরিস্থিতিতে কাজ করা অসম্ভব। মৃতের পরিবারের বক্তব্যও একই—পরিকল্পনা ছাড়া এই ব্যবস্থা চললে আরও মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। সিইও দফতর যদি দ্রুত আলোচনায় না বসে, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।





