GDP of India: IMF–এর ধাক্কা! জিডিপি তথ্য ‘ত্রুটিপূর্ণ’? C গ্রেড পেয়ে কোণঠাসা কেন্দ্র, তীব্র আক্রমণ বিরোধীদের!

দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে থাকে। কারণ GDP থেকে শুরু করে মূল্যবৃদ্ধি—সবটাই শেষমেশ প্রভাব ফেলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তাই কেন্দ্র যে সম্প্রতি জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেছে, তা স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। কিন্তু এই ইতিবাচক ছবির মাঝেই তৈরি হয়েছে নতুন এক বিতর্ক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দেশের পরিসংখ্যান সম্পর্কে।

জিডিপি বৃদ্ধির দাবি নিয়ে বিরোধীদের সরব হওয়া নতুন নয়। কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশে পৌঁছেছে এবং GST ছাড় দেওয়ার ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলি সেই দাবিকে মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, তথ্য উপস্থাপনে গরমিল রয়েছে। এই চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই IMF যে মন্তব্য করেছে, তা বিতর্ককে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। IMF জানিয়েছে, ভারতের জিডিপি-সহ বেশ কিছু জাতীয় হিসেবের তথ্যকে তারা ‘C’ গ্রেডের মধ্যে ফেলেছে।

IMF-এর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উঠে এসেছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তারা জানিয়েছে, সরকারি পরিসংখ্যান সংগ্রহের প্রক্রিয়া যথেষ্ট পূর্ণাঙ্গ নয়। সর্বশেষ যে তথ্য ও পরিকাঠামো দিয়ে জিডিপি মাপা হচ্ছে, তা এখনও ২০১১–১২ সালের ভিত্তিবর্ষের উপর নির্ভর করে—যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। উৎপাদন বনাম খরচ—দুটি পদ্ধতির হিসেবেও নাকি যথেষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। IMF মনে করছে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের তথ্য সংগ্রহে আরও দক্ষতা ও নজরদারি প্রয়োজন।

শুধু জিডিপিই নয়, মূল্যবৃদ্ধি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তুলেছে IMF। ক্রেতা মূল্য সূচক (CPI)–র ভিত্তিতে যে ভাবে ভারত মুদ্রাস্ফীতি মাপছে, সেই হিসেবকেও তারা দিয়েছে ‘B’ গ্রেড। অর্থাৎ তথ্যকে পুরোপুরি নিখুঁত বলা যাচ্ছে না, তবে নজরদারি চালানো সম্ভব—এমনটাই ইঙ্গিত প্রতিষ্ঠানটির। আর এই পর্যবেক্ষণ সামনে আসতেই বিরোধীরা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তাহলে কি কেন্দ্র দ্রুততার সঙ্গে জিডিপির হার প্রকাশ করে প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করতে চাইছিল?

আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : একের পর এক বিএলও-র মৃত্যু! ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার ও সংগঠন, সিইও দফতরের সামনে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ—“এসআইআর যদি করতে হয় তাহলে সঠিক পরিকল্পনা করে করতে হবে”!

এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সরাসরি কেন্দ্রকে skর দিকে আঙুল তুলেছেন। IMF-এর রিপোর্ট প্রকাশের পর তিনি প্রশ্ন করেছেন, ঠিক কোন ভিত্তিতে এত দ্রুত জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হল? অর্থনীতিবিদদের একাংশও মনে করছেন, সরকারি তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে সংস্কার আনা না হলে এই বিতর্ক চলতেই থাকবে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক হিসেব নিয়ে যে সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা এখনই থামছে বলে মনে হচ্ছে না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles